১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ফ্রান্স। এ-সংক্রান্ত একটি বিল দেশটির পার্লামেন্টের সমন্বয় কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। এখন এটি জাতীয় পরিষদ (নিম্নকক্ষ) ও সিনেটে পাস হলেই আইনে পরিণত হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ চান, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই আইনটি কার্যকর হোক। আইনটি কার্যকর হলে ১৫ বছরের কম বয়সীরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ জোরদার করছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে অস্ট্রেলিয়া। সেই ধারাবাহিকতায় এবার একই পথে এগোচ্ছে ফ্রান্স।
শুধু নিজ দেশে নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়েও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নীতির পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট মাখোঁ। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লায়েনও ২৭ সদস্যদেশে শিশুদের জন্য এমন বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ হবে, তার তালিকা তৈরি করবে ফ্রান্সের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এ ব্যবস্থার তদারকি ও অনুমোদন দেবে দেশটির ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এ ছাড়া বিলে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। সরকারের আশা, এ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরতা কমবে, পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ও শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।




Comments