Image description

জ্বালানি সংকট বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়াচ্ছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ চাহিদা তীব্র হয়, এখন থেকে মনোযোগ না দিলে উৎপাদন কমে আসবে। দেশ এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখোমুখি হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে সেই সাথে রয়েছে ডলারের উচ্চমূল্য।  আমদানিতে কিছু বাধ্য বাধকতা সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি বেগতিক। প্রচণ্ড তাপদাহ-অতিষ্ঠপ্রাণ এর মধ্যে  লোডশেডিং চলছে। তপ্ত পরিবেশে পাখা, লাইট ও কলকারখানার কার্যক্রম অস্বাভাবিক হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২৪ জেলা অতিমাত্রায় লোডশেডিং কবলিত, জানা গেছে ঢাকায় ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য লোডিশেডিং পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিদ্যুতের উৎপাদন কমে যাওয়ায় একধরনের বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে অনেক আগে থেকেই! বাইরের দেশ থেকে বিদ্যুৎ আসছে। চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। 

পাওয়ার গ্রিড অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াটের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, যা লোডশেডিং আকারে গ্রাহকের ওপর পড়ছে। বিদ্যুৎ বিভাগও স্বীকার করেছে, এই ঘাটতি সামনের দিনে আরও বাড়তে পারে। দেশে উৎপাদন সক্ষম বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে না। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা এবং সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি আমদানি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করলে এমনই আভাস পাওয়া যায়। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল আমদানি, কয়লা আমদানি, এমনকি এলএনজি আমদানিতে সংকট রয়েছে। ফলে গ্রীষ্মে লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে সরকার। 

বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যানুযায়ী বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২১৮ মেগাওয়াট, উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৮৬৬ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং হয়েছে দুই হাজার ৩৫২ মেগাওয়াট। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঠিক করে। ইরান যুদ্ধই কি জ্বালানি আমদানিতে সংকট? ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পণ্য বিশেষ করে জ্বালানি তেল, কয়লা, এলএনজি, আমদানি কিছু সংকট তৈরি হলেও দেশের আর্থিক সংকট বড় কারণ হয়ে দেখ্য দিয়েছে। 

যুদ্ধবিরতির পর সরকার তার নিয়মিত উৎস থেকে উৎপাদনে সক্ষম বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকলেও জ্বালানি সংকটে উৎপাদন হবে না একাধিক সংস্থা  বিদ্যুৎ  সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা করণীয় নির্ধারণ করবেন। সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক পাঁচজন করে সদস্য থাকবে। 

কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য বিগত সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবকে দায়ী করা যায়। রাজধানী ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট প্রাথমিকভাবে, পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটিও বন্ধ হওয়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ব্যাহত হয়। ঢাকায় বলা যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক, কিন্তু সংকট তীব্র গ্রামাঞ্চলে। 

বিদ্যুৎ একটি প্রয়োজনীয় উপাদান- এর উপর ভিত্তি করে কৃষিকাজ পরিচালিত সেচ দেয়া, শ্যালো মেশিন চলে।করা যাচ্ছে না। গ্যাস চাহিদা প্রতিদিন বাড়ছে। ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। উৎপাদন হয় ৯৫০ ঘনফুট। ৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট  আমদানি করা হয়। ঘাটতি ১ হাজার ঘনফুট। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। ইরান যুদ্ধের অভিঘাত বিদ্যুৎ খাতেও এসে পড়েছে। 

পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ চাহিদা দুই-তিন ঘণ্টা বেশি। সেখানে  লেডিশেডিং একটা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখা যায়। সন্ধ্যার দোকানপাট, প্রতিষ্ঠানে কর্ম দিবস কমিয়ে আনা হয়েছে। কম আলো ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বৈশ্বিক  রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নির্ভর করে গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেল ওয়েল প্রাপ্তির উপর। আবহাওয়া বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ায় ও কমায়। ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত সময় ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধক উল্লেখ করছে। কল-কারখানা, ব্যাটারিচালিত যানবাহন রিকশাসহ অটোযান, ওয়েলডিং শ্রমিক, লোডশেডিং এর কারণে আয়ের উৎস হারাচ্ছে ব্যাটারিচালিত যান, ক্ষুদ্র কারখানায় বিদ্যুৎ খরচ বাড়ছে।

দোকান খোলার বিকল্প প্রস্তাবে সকাল এগারোটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার বিষয় রাখা হয়েছে। মহামারি, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও ইরানে যুদ্ধাবস্থা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অনুঘটক। এখন প্রয়োজন সরকারি, বেসরকারি ও দাতা সংস্থার নতুন উদ্যোগ। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়া চলতেই থাকবে। এমন না ভেবে মজুত বিদ্যুৎ কীভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবহার কথা যায় তা আজ ভাবতে হবে। আমদানি নির্ভরতার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। অপ্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে যুক্ত করতে হবে।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও জাদুঘর কর্মকর্তা