রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যের পদত্যাগ দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ঘিরে ব্যাংক পাড়ায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিক্ষোভের মুখে মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও সাঁজোয়া যান (এপিসি) প্রস্তুত রেখেছে।
আন্দোলনরত গ্রাহকদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’। তারা অবিলম্বে এই পর্ষদের পদত্যাগ, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল এবং সম্প্রতি অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ অবৈধভাবে ইসলামী ব্যাংক দখল করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন ও বিদেশে পাচার করেছে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন আবারও একটি কুচক্রী মহল ব্যাংকটিকে ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
আব্দুল হান্নান খন্দকার নামের এক গ্রাহক বলেন, "বিগত স্বৈরাচারী সরকার এস আলম গ্রুপকে দিয়ে ব্যাংকটি ধ্বংস করেছিল। এখন খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান করে আবারও লুণ্ঠনকারীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। আমরা আমাদের আমানত রক্ষায় এই অপচেষ্টা রুখে দেব।"
আরেক আন্দোলনকারী আবুল খায়ের আজাদ গত সোমবারের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "জুলাই বিপ্লবের সময় যিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খুরশীদ আলমকে ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।"
আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার যোগসাজশে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে। বর্তমান এমডি ওমর ফারুক খানকে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও তারা অবৈধ বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগের পর সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। এই নিয়োগের পর থেকেই সাধারণ গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামে। গতকাল সোমবার একই দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments