Image description

​নেপাল দূতাবাস ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) যৌথ উদ্যোগে উদযাপিত হয়েছে ৭৩তম আন্তর্জাতিক মাউন্ট এভারেস্ট দিবস। এবারের দিবসের মূল ভাবনা ছিল ‘পাহাড়, মাইলফলক এবং স্মৃতি’। 

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে দিবসটি উপলক্ষে একটি রোমাঞ্চকর ‘অভিযান ভিডিও প্রতিযোগিতা’ এবং দেশের সফল পর্বতারোহীদের এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানের সদ্য এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশী নারী নুরুন্নাহার নিম্নি কে সংবর্ধনা দেওয়া হয় । গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দেশের তৃতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। অনুষ্ঠানে নিমনীর পাশাপাশি গত এক বছরে নেপালের ৬ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার বিভিন্ন পর্বতশৃঙ্গ সফলভাবে জয় করা আরও ২২ জন অকুতোভয় বাংলাদেশী পর্বতারোহীকে বিশেষ প্রশংসাপত্র ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন: ​"জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের ভঙ্গুর পরিবেশ এবং এর ওপর নির্ভরশীল মানুষ আজ চরম সংকটে। এই সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।"

​তিনি বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে মৈত্রীর বন্ধন দৃঢ় করতে এবং পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে দুই দেশের পর্বতারোহীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

​এর আগে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এক ভিডিও বার্তায় সগরমাথাকে মানুষের আশা ও সহনশীলতার প্রতীক আখ্যা দিয়ে হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানান। ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী তাঁর বক্তব্যে টেকসই পাহাড়ি পর্যটন প্রসারে নেপালের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশী তরুণদের মাঝে পর্বতারোহণের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রশংসা করেন।

​দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত ভিডিও প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিগত অভিযানের মোট ১৬ টি ভিডিও প্রদর্শিত হয়। যেখানে তাদের পর্বত অভিযানের রোমাঞ্চকর ও অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

​বিজয়ী তালিকা: প্রথম স্থান: ইকরামুল হাসান শাকিল (ভিডিও: “সী টু সামিট”), ​দ্বিতীয় স্থান: বাবর আলী (ভিডিও: “এভারেস্ট অ্যান্ড লোতসে”), ​তৃতীয় স্থান অর্জন করেন নিশাত মজুমদার ও মুনতাসির মামুন (ভিডিও: “সামিট ইজ আ ওম্যান”)

​এছাড়াও অনুষ্ঠানে মাউন্ট এভারেস্টজয়ী প্রথম নেপালি নারী পাস্যাং লামু শেরপার জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত বিখ্যাত প্রামাণ্যচিত্র ‘পাস্যাং: ইন দ্য শ্যাডো অব এভারেস্ট’ প্রদর্শিত হয়।

​অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন; ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বিএমটিসি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট প্রকৃতিপ্রেমী ইনাম আল-হক এবং প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে ছিলেন খ ম হারুন। 

জমকালো এই আয়োজনে দেশী-বিদেশী কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, পর্বতারোহী, পরিবেশবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।