বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। একটা তো পালিয়ে গিয়েছে দেশ থেকে। কিন্তু আরেকটা পক্ষ আছে যারা, এই দুই পক্ষ আবার আগে থেকে একসাথেই ছিল। এই দুই পক্ষ কিন্তু বিভিন্ন সময় একসাথেই ছিল, তলেতলে একসাথেই ছিল। গত ১৬ বছরেও আপনারা মাঠেঘাটে কোথাও ওদের পেয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে তাদেরকে পেয়েছেন? কোথাও ছিল না। ওই ভেতরে-ভেতরে কিন্তু তাদের সাথেই ছিল এরা। এখন এরা আবার ষড়যন্ত্র শুরু করছে বিভিন্ন রকম। এখন আপনাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে-যাতে ষড়যন্ত্র করে আপনাদের ভোট এদিক-ওদিক না করে।’
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওগায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তারেক রহমান কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে এ সব কথা বলেন। রাজশাহীতে জনসভা শেষ করে বাসে করে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নওগাঁয় জনসভাস্থলে পৌঁছান তিনি। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। এর আগে নওগাঁর ছয়টি আসন ও জয়পুরহাটের দুটি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সকাল সাতটার সময় ভোটকেন্দ্র খুলবে। ভোট দেওয়া আরম্ভ করবেন। খেয়াল রাখবেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতর কী হচ্ছে, সেটা। কিছুদিন আগে দেখেছেন, ভোটকেন্দ্রে লাইন আছে; কিন্তু লাইন আর লড়ে না। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে যেন কিছু করতে না পারে, খেয়াল রাখবেন।’
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘সংসদ সদস্য প্রার্থীরা এলাকার বেশ কিছু দাবিদাওয়া তুলে ধরলেন। এত যে দাবি তাহলে গত ১৬ বছরে কী হয়েছে? কিছুই তো হয়নি। শুধু ঢাকা শহরে কিছু ফ্লাইওভার হয়েছে। কিছু মেগা প্রকল্প হয়েছে। মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি। আমরা চাই গ্রামের উন্নয়ন করতে, কৃষকের উন্নয়ন করতে। এত যে দাবি, এই দাবি তখনই পূরণ হবে, আমরা নির্বাচিত হতে পারলে, সরকার গঠন করতে পারলে। আগামী ১২ তারিখে যে ভোট, সেই ভোটে আমাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে হবে। আমরা দেখেশুনে প্রার্থী নির্বাচন করেছি। ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা এদের সাথে থাকবেন।’
তারেক রহমান বলেন, নওগাঁ জেলা ধানের ভান্ডার। ধানের জন্য সারা দেশে এ অঞ্চলের সুখ্যাতি আছে। একসময় এ অঞ্চলে একটি ফসল হতো। এখন তিনটি করে ফসল হয়। শহীদ জিয়াউর রহমান বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করার পর থেকে তিনটি ফসল হওয়া শুরু করেছে। বেগম খালেদা জিয়া সেটাকে আরও বিস্তৃত করেন। কৃষক ভাইদের ভালো রাখতে পারলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।
কৃষকদের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন প্রথমবার সরকার গঠন করলেন, তখন উনি ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন সব মওকুফ করে দিয়েছিলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। আজকে সকালেই আমি রাজশাহীতে ঘোষণা দিয়েছি, ইনশা আল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে, এখন এই মুহূর্তে যে সকল কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, আমরা সেই ঋণ সুদসহ পুরাটা মওকুফ করব ইনশা আল্লাহ।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের সকল কৃষক ভাইদের কাছে আমরা একটি কার্ড দিব। এই কার্ডটির নাম ‘কৃষক কার্ড’ শুনছেন এর মধ্যে? এটি আমরা ধীরে ধীরে, একবারে তো পারব না—ধীরে ধীরে আমাদের যেতে হবে; কিন্তু সব রকম প্রান্তিক কৃষক বলেন, ক্ষুদ্র কৃষক বলেন, মাঝারি কৃষক বলেন, বৃহত্তর কৃষক বলেন—সব কৃষক ভাইদের হাতে আমরা আস্তে আস্তে এই কৃষি কার্ডটা পৌঁছে দেব। এখন এই কৃষি কার্ড দিয়ে কী হবে? এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সেই কৃষক ভাইয়ের একটি সিজনের একটি ফসলের যাবতীয় বীজ, সার, কীটনাশক সেটি আমরা তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’
বিএনপি সরকার গঠন করলে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকাটা যেহেতু কৃষিভিত্তিক অঞ্চল, এই এলাকায় যারা কৃষি লোন নিয়ে কৃষিভিত্তিক মিল–ফ্যাক্টরি করবে, তাদের বিশেষভাবে সহায়তা করব। এতে করে তাদের মিল–ফ্যাক্টরিগুলোতে এ অঞ্চলের মানুষের, এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েগুলোর কর্মসংস্থান হবে। এভাবে আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। এর বাইরে আমরা জেলায় ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করতে চাই, যেখানে আমরা তরুণ এবং যুবসমাজকে ট্রেনিং দেব, তাঁদের আমরা দক্ষ করে তুলব। দক্ষ করার মাধ্যমে তাঁরা বিদেশে অথবা দেশে চাকরি করবে।’
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ইকরামুল বারী, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম, জয়পুরহাট-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল বারী প্রমুখ বক্তব্য দেন।




Comments