নিজের গ্রামের বাইরে বিয়ে করলে গুনতে হবে জরিমানা, বিয়ের ১০ মাসের মধ্যে সন্তান হলে দিতে হবে অর্থদণ্ড, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া থামাতে গ্রাম কর্মকর্তাদের ডাক পড়লেও পকেট থেকে খসবে টাকা! ২০২৬ সালে এসে আধুনিক সভ্যতায় এমন ‘মধ্যযুগীয়’ আইনের কথা শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে চীনের ইউনান প্রদেশের একটি গ্রাম।
ইউনান প্রদেশের লিনচাং শহরের মেংডিং টাউনশিপের একটি গ্রামে গত ডিসেম্বরের শেষে বাসিন্দাদের জন্য কিছু লিখিত আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়:
বিয়েতে বাধানিষেধ: গ্রামের কেউ যদি নিজ প্রদেশের বাইরে বিয়ে করেন, তবে তাকে ১ হাজার ৫০০ ইউয়ান জরিমানা দিতে হবে।
লিভ-ইন রিলেশন: বিয়ে নিবন্ধন না করে একসঙ্গে বসবাস করলে প্রতি বছর ৫০০ ইউয়ান জরিমানা গুনতে হবে।
গর্ভধারণ সংক্রান্ত বিতর্ক: কোনো নারী বিয়ের আগে অন্তঃসত্ত্বা হলে বা বিয়ের ১০ মাসের কম সময়ের মধ্যে সন্তান জন্ম দিলে ৩ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
পারিবারিক কলহ ও বিশৃঙ্খলা: স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া মেটাতে কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষকে ৫০০ ইউয়ান জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা করলে ৫ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এই নিয়মের নথিটি চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ওয়েইবো’-তে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “আমরা কি ২০২৬ সালে আছি নাকি ১০০ বছর আগের সামন্ত যুগে ফিরে গেছি?” নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও শারীরিক সিদ্ধান্তের ওপর এমন হস্তক্ষেপকে অনেকেই ‘অমানবিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় মেংডিং টাউন সরকার। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গ্রাম কর্তৃপক্ষের এমন কোনো আইন জারির সাংবিধানিক বা আইনি ক্ষমতা নেই। চীনের জাতীয় আইন অনুযায়ী নাগরিকরা তাদের জীবনসঙ্গী নির্বাচনে স্বাধীন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে একতরফাভাবে জারি করা এই নিয়মগুলোকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় মাঝে মাঝেই এমন অদ্ভুত নিয়ম দেখা যায়। এর আগে ২০২৩ সালে সিচুয়ান প্রদেশে নোংরা বাসন রেখে দেওয়ার জন্য বা কম্বল ঠিকমতো না ভাঁজ করার জন্য জরিমানা আরোপের ঘটনাও বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আইনবিদদের মতে, এ ধরনের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপমূলক সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়।
সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments