২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৪০৩ নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। গত বছরের নভেম্বর মাসে দেওয়ার এই শোকজের জবাব দিয়েছেন মাত্র ৮৩ নেতাকর্মী।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ। সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও অর্জনসমূহ তুলে ধরা হয়।
তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলা দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের শাস্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ডাকসু নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি প্রক্টর বলেন, মোট ৪০৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
এরমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছে ৮৩ জন। এদের কেউ লিখিতভাবে, কেউ আবার অনলাইনের মাধ্যমে জমা দিয়েছেন। এই ৮৩ জনের বর্তমান একাডেমিক অবস্থা জানার জন্য আমরা বিভাগ ও হলগুলোতে চিঠি দিয়েছি। এই চিঠিগুলো দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, আমরা দেখতে চাই যে তিনি যে শোকজের জবাব দিয়েছেন সেটা কতটা সংগত কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, গত বুধবারে আমরা তাদের তথ্য পেয়েছি। এই তথ্যগুলো নিয়ে এই সপ্তাহে সভা করে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এর বাইরে যারা আছে তাদেরগুলো আমরা আসন্ন শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় উপস্থাপন করব। এরপর সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘটিত বেআইনি ও সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ১২৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির দ্বিতীয় সভায় ১২৮ জনসহ মোট ৪০৩ শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।




Comments