বিশ্ব হিজাব দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, মানববন্ধন, সেমিনার এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে হিজাব বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির আয়োজন করে ডাকসু।
দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে একটি হিজাব র্যালি বের করা হয়। ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না এবং উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার নেতৃত্বে র্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ‘হিজাব আমার অধিকার, কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কার’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ এবং ফিলিস্তিনের সংহতিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
র্যালি পরবর্তী মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হিজাব কেবল একটি পোশাক নয়; এটি মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পরিচয় ও আত্মমর্যাদার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে হিজাব পরিহিত নারীদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে এর প্রতিকার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এরপর বিকেল ৩টায় টিএসসি অডিটোরিয়ামে ‘HIJAB: SYMBOL OF PRIDE AND FREEDOM’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারবিয়াহ এডুকেশন নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোখতার আহমাদ, শিক্ষক ও গবেষক ড. নাজমুন নাহার এবং আস সাহওয়া ইনস্টিটিউট অব নলেজের পরিচালক রাইসা রিফাত জুইন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, হিজাব নারীর মর্যাদা, পরিচয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতীক। আধুনিক সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় হিজাবের গুরুত্ব অপরিসীম।
ডাকসুর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না ও উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামীমা তাসনীম, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার জেন্ডার গবেষণা ফেলো সুমাইয়া রাবেয়া এবং ডাকসুর কমনরুম সম্পাদক উম্মে সালমা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments