Image description

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় বিমান হামলার খবর ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১০ ডলার (৮২.৭৮ পাউন্ড) ছাড়িয়ে যায়।

ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন সাউথ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র। এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস এবং কাতারের আন্তর্জাতিক এলএনজি রপ্তানির মূল কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের একাধিক এলএনজি স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে বড় ধরনের আগুন লেগেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজার খোলার শুরুতেই ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের সূচক মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছায়, যা মঙ্গলবারের তুলনায় ৫ শতাংশেরও বেশি।

তবে পরে দাম কিছুটা কমে আসে। একইভাবে যুক্তরাজ্যের গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্যও ৬ শতাংশ বেড়ে ১৪৩.৫৩ পেন্সে উঠেছিল, পরে তা কমে প্রায় ১৪০ পেন্সের কাছাকাছি নেমে আসে। কাঁচামাল বা পণ্যের আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় বাজারে আমদানির ক্ষেত্রে বা রপ্তানির সময় বেঞ্চমার্ক মূল্যকে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে ধরা হয়।

ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলার খবর প্রকাশের পরই এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়।

এর কয়েক ঘণ্টা পর কাতার জানায়, ইরানের হুমকির প্রেক্ষিতে রাস লাফান শিল্প এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে এজে বেল-এর আর্থিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ড্যানি হিউসন বলেছেন, ‘ইরানের হামলা পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত করতে করেছে, ফলে তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে।’ তিনি আরা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর অবরোধের কোনো সমাধান এই মুহূর্তে বেশ সুদূরপ্রসারী বলে মনে হচ্ছে এবং যতক্ষণ না এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে, জ্বালানি বাজার সম্ভবত অস্থিতিশীল থাকবে।’