ববিতে শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউন, সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা
পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষকদের সর্বাত্মক একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সেশনজটের আশঙ্কায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নানা সংকটে জর্জরিত এই ক্যাম্পাসে যেখানে চার বছরের স্নাতক শেষ করতে এমনিতেই বাড়তি সময় লাগে, সেখানে শিক্ষকদের এই কঠোর কর্মসূচিতে নতুন করে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে শিক্ষার্থীদের কপালে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছে। শিক্ষকদের দাবি, উপাচার্য ইউজিসির (UGC) নিয়মের দোহাই দিয়ে তাদের পদোন্নতি আটকে রেখেছেন। এই দাবিতে গত রোববার মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন আমরণ অনশনে বসেন। এরপর সোমবার শিক্ষকদের এক সভা থেকে মঙ্গলবার কর্মবিরতি এবং বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের ক্লাসরুম ও শিক্ষকদের কক্ষে তালা ঝুলছে। ক্যাম্পাসে কোনো একাডেমিক কার্যক্রম চলেনি, ফলে চারদিকে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। তবে প্রশাসনিক দপ্তরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবার ও বুধবার নির্ধারিত বেশ কয়েকটি বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হলেও শিক্ষকরা কেন্দ্রে না আসায় পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়।
এই অচলাবস্থায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসাইন বলেন, “শিক্ষকদের পদোন্নতির লড়াইয়ে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন বলির পাঁঠা হবো? আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে, জানি না এই সমস্যা কবে সমাধান হবে।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাওলাদার বলেন, “কুরবানির ঈদের আগে আমাদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ফরম ফিলাপই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এভাবে পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে আমাদের অন্তত দুই মাসের সেশনজটে পড়তে হবে। শিক্ষকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, তারা যেন আমাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাজ্জাদ উল্লা ফয়সাল জানান, মঙ্গলবার ও বুধবার একাধিক বিভাগের পরীক্ষা ছিল যা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে প্রশাসনিকভাবে তারা পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন রেখেছিলেন।
আন্দোলনরত এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা গত দুই মাস ধরে উপাচার্যের সাথে একাধিক সভা করেও কোনো সমাধান পাইনি। বাধ্য হয়েই আমাদের এই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছু হটবো না।”
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “আমি শিক্ষকদের অনুরোধ জানিয়েছি যাতে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো আন্দোলনের আওতামুক্ত রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে শিক্ষকদের নমনীয় হওয়া প্রয়োজন।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments