Image description

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিথী আক্তার (১৫) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচাতো চাচার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাঁখারিকাঠি গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর আহত ওই পরীক্ষার্থী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিথী আক্তার ওই গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের মেয়ে এবং তুষখালী তোফেল আকন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন বিথীর চাচাতো চাচা নজরুল ইসলাম (৩৩) ও সহযোগী মো. রাহাত (১৮)।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিথীর বাবা বাদল হাওলাদারের সঙ্গে পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে নজরুল ইসলাম ও রাহাতের কথা-কাটাকাটি এবং হাতাহাতি হয়। এসময় বিথী এগিয়ে গিয়ে ঝগড়ার কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম হাতুড়ি দিয়ে বিথীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হাতুড়ির আঘাতে বিথীর ডান হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

আহত অবস্থায় বিথীকে উদ্ধার করে প্রথমে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাড়ের জখম গুরুতর হওয়ায় এবং অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে।

মঠবাড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন জানান, “ঘটনাটি মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পাবলিক পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন ঘটনায় বিথীর শিক্ষা জীবন ও পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই