Image description

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম গত কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকালে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি কন্টেইনার জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম (ইউকেএমটিও)। এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। লন্ডনের স্থানীয় সময় সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ দশমিক ০৭ ডলারে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি মার্কিন তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) দেড় ডলারেরও বেশি বেড়ে ৯১ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটা মানেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হওয়া। এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই একতরফা ঘোষণা ইরান বা ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

এদিকে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপেও জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রুশ সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, আগামী ১ মে থেকে কাজাখস্তান হয়ে জার্মানিতে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে রাশিয়া। এর ফলে ইউরোপের দেশগুলো এখন যেকোনো মূল্যে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা পিভিএম জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক হামলা—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক বাজারে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানবকণ্ঠ/আরআই