Image description

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) প্রকাশ্য ও গোপন সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ তিন দফা দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চালু রাখার দাবিতে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টানটান উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টায় রুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। একই সময়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক এলাকায় মিছিল নিয়ে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এর আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের টাঙানো একটি ব্যানার পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে সোমবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বন্ধ হওয়া ছাত্র রাজনীতি কেন পুনরায় সচল হলো, সে বিষয়ে প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে।
২. ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চলবে কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ‘গণভোট’ আয়োজন করতে হবে।
৩. ছাত্র রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, রুয়েট ক্যাম্পাসে ‘নো পলিটিক্স’ বা সব ধরনের রাজনীতি বন্ধের দাবিতে একটি ব্যানার টাঙানো হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ওই ব্যানারটি ছিঁড়ে পুড়িয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাত ১টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে শহীদ জিয়া হলের সামনে ছাত্রদলের সাথে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

এদিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, রুয়েটের সংবিধানে শিক্ষক রাজনীতি বন্ধের কথা থাকলেও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। তাই তারা নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির পক্ষে। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা দিপ্র বলেন, "রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। তবে যদি রুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধই হয়, তবে সবার আগে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বন্ধ করতে হবে। পরিচয় লুকিয়ে একটি পক্ষ গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা আগে দমন করা জরুরি।"

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, "বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ আগের প্রজ্ঞাপনের দোহাই দিয়ে রাজনীতি বন্ধ চায়, অন্যপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধান অনুযায়ী রাজনীতি চালু রাখতে চায়। আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সুরাহা করার চেষ্টা করছি।"

যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর