Image description

পদোন্নতির দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) আবারও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামেন তারা। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ সকল প্রশাসনিক দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির করে দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিদ্যমান সংকট নিরসনে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে কোনো কার্যকর এজেন্ডা রাখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সংকট সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষকদের দাবি, উপাচার্যের এমন একঘেয়েমি সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় আরও গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এরই প্রতিবাদে আয়োজিত সাধারণ সভা থেকে পুনরায় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা আসে। একই সাথে বর্তমান উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দাবি করেছেন যে সিন্ডিকেট সভাটি ইতিবাচক ছিল এবং শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা থাকার কথা নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ব্যাহত না করে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ না রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল থেকে পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হয়। শুরুতে কর্মবিরতি ও শাটডাউন পালন করা হলেও গত ২৮ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন শিক্ষকরা। সোমবারের কর্মসূচি সেই আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর