ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে দূষিত পানি পান করে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় মধ্যরাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, হলের নোংরা পানির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানালে হল প্রশাসন ও হল সংসদের পক্ষ থেকে ‘পোস্ট ডিলিট’ করার জন্য মানসিক চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ‘পোস্ট ডিলিট’ আতঙ্ক এবং প্রশাসনিক অবহেলার প্রতিবাদে বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে হল ছেড়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ আবাসিক ছাত্রী।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, গত দুই সপ্তাহ ধরে হলের পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি পান করে এবং ব্যবহার করে অন্তত ৩০০ জন ছাত্রী পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বিষয়টি হল প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো অসুস্থতার বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট করলে হল অফিস ও হল সংসদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ফোন করে পোস্ট মুছে ফেলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিভাগের শিক্ষকদের দিয়েও শিক্ষার্থীদের ফোন করিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা অসুস্থ হয়ে পড়লে হল প্রশাসনকে পাশে পাই না। অথচ ভর্তির সময় আমাদের কাছ থেকে স্বাস্থ্য খাতে নিয়মিত টাকা নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। আমাদের টাকা কোথায় যায়?’
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের সামনে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—১. হলের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্যান্টিন খাতের বাজেটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা; ২. শিক্ষার্থীদের গণহারে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের অবহেলার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ৩. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ডিলিট করতে চাপ দেওয়া বন্ধ করা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিক্ষোভের আগে হল প্রভোস্টের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বাজেট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রভোস্ট ড. মাহবুবা সুলতানা শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে আমাদের আলাদা কোনো বাজেট নেই।’ প্রভোস্টের এমন মন্তব্যে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের দাবি, সিট নবায়নের সময় তাদের কাছ থেকে স্বাস্থ্য খাতে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। সেই টাকার সঠিক হিসাব না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট ড. মাহবুবা সুলতানা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য খাতে হলের নিজস্ব কোনো বিশেষ বাজেট না থাকায় এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভকারী ছাত্রীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তারা হল প্রশাসন ও হল সংসদের পদত্যাগের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments