Image description

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে নাড়ির টান ছেড়ে আবারও যান্ত্রিক শহর ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোর থেকেই রাজধানীর প্রধান দুই প্রবেশপথ—কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

ঈদের আগের চিরচেনা ভোগান্তি বা উপচেপড়া ভিড় ছাড়াই এবারের ফিরতি যাত্রা অনেকটা স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। এবার ঈদে ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় মানুষ ধাপে ধাপে ফিরছেন, ফলে গণপরিবহনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়নি। রোববার (২২ মার্চ) বিকেল থেকেই কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও তা ছিল সুশৃঙ্খল।

নোয়াখালী থেকে আসা উপকূল এক্সপ্রেসের যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার থেকে অফিস খোলা থাকায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে তিনি সময়মতো ফিরছেন। বাসের তুলনায় ট্রেন ভ্রমণ নির্বিঘ্ন হওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন। এক সপ্তাহ আগে গ্রামে যাওয়া যাত্রী শাহজালাল জানান, জীবিকার তাগিদে প্রিয়জনদের ছেড়ে আবারও কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে তাকে।

অন্যদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সোমবার ভোর থেকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা লঞ্চগুলোর ভিড় বাড়তে থাকে। ভোলার চরফ্যাশন থেকে আসা লঞ্চের যাত্রীরা জানান, এবারের লম্বা ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনা ছাড়াই ঢাকায় পৌঁছাতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ফেরার স্রোতের মাঝেও সোমবার এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ঈদের আগে যারা টিকিটের তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে ঢাকা ছাড়তে পারেননি, তারা এখন পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে জামালপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ।

সপরিবারে গ্রামে যাওয়া যাত্রী তরিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের আগে টিকিটের জন্য অনেক যুদ্ধ করেও কাজ হয়নি। তাই ভিড় কমলে যাব বলে ঠিক করেছিলাম। এখন আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে ও ঈদের আমেজ ভাগাভাগি করতে গ্রামে যাচ্ছি।”

দীর্ঘ ছুটির অবসান ঘটিয়ে সোমবার থেকে পুরোদমে সচল হতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সোনালী স্মৃতি নিয়ে আবারও ব্যস্ত জীবনে ফিরছে লাখো মানুষ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর