Image description

রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ঢাকার ১২০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ শীর্ষক এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্তসহ মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এই বৈঠকে ৯টি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।”

গৃহীত ৯টি প্রধান সিদ্ধান্ত
১. ঢাকার ১২০টি ট্রাফিক সিগন্যাল দেশীয় প্রযুক্তিতে পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে।
২. যানজট কমাতে শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং ভেতরে প্রয়োজনীয় ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে।
৩. সড়কের যত্রতত্র থাকা সব বাস কাউন্টার দ্রুত অপসারণ করা হবে।
৪. ঢাকার ভেতরে থাকা ৫টি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। এসব টার্মিনাল তখন কেবল ‘সিটি সার্ভিস’ বা অভ্যন্তরীণ বাসের জন্য ব্যবহৃত হবে।
৫. সড়কের দুই পাশের অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে এবং রাস্তার মাঝখানে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।
৬. রেল ক্রসিংগুলোতে ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে।
৭. সব সিটি বাসকে জিপিএস (GPS) সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।
৮. ফুটব্রিজগুলোতে চলন্ত সিঁড়ি (Escalator) স্থাপন করা হবে।
৯. হাসপাতাল এলাকার ফুটব্রিজগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তির লিফট স্থাপন করা হবে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে অধিকাংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, রাজউক চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর