Image description

রাজধানীর খিলক্ষেতে সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে আবাসন কোম্পানি ‘স্বদেশ প্রোপার্টিজ’-এর বিরুদ্ধে। ড্যাপের আইন লঙ্ঘন করে স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে স্থানীয়দের নামে ভিত্তিহীন মামলা দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ১৫ এপ্রিল বুধবার খিলক্ষেতের বরুয়া এলাকায় স্বদেশ প্রোপার্টিজের দাবিকৃত প্রকল্পের ভেতরে নির্মাণাধীন বেইলি ব্রিজ প্রকল্পের কাজে বাধা, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে দেড় শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সুপার ভাইজার দেলোয়ার হোসেন। তবে সরেজমিনে মামলার এজাহারে উল্লেখিত সংঘর্ষের কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি মূল অভিযুক্তদের কর্মস্থলে থাকার সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও রহস্যজনক কারণে মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ।

আইন অনুযায়ী রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন বরুয়া এলাকা ড্যাপে আওতাভুক্ত। কিন্তু আইন অমান্য করেই এখানে বুক ফুলিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্বদেশ প্রোপার্টিজ। সরকারি খালের ওপর বেইলী ব্রীজ নির্মাণ করছে প্রভাবশালী ভূমিদস্যু এম এ কাইয়ুমের এই প্রতিষ্ঠান।

ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, ড্যাপের প্রকল্পভুক্ত এলাকা এবং সরকারি সম্পত্তিতে অনুমোদন ছাড়া ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আইনের কোনো তোয়াক্কা করছে না প্রভাবশালী এই আবাসন কোম্পানিটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্যাপের প্রকল্পভুক্ত এলাকায় ব্যক্তি মালিকানীধানী জমিতে নির্মাণ চালাতে হলেও এক্ষেত্রে রাজউকের অনুমোদন প্রয়োজন।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবাদী কর্মী ইকবাল হাবিব বলেন, এক্ষেত্রে তারা অনুমোদন নিয়েছে কি না সেটা রাজউক বলতে পারবে।স্বদেশের নির্মাণাধীন এলাকায় আদৌ কোনো ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে স্থানীয়দের।

এদিকে নিজেদের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টায় জিডি করার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় মামলা রুজু করা হয়। তথাকথিত এক সংঘর্ষের দোহাই দিয়ে দেড় শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দার নামে খিলক্ষেত থানায় মামলা ঠুকে দেন স্বদেশ প্রোপার্টিজের সুপার ভাইজার দেলোয়ার হোসেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন কোনো ঘটনার খবরই জানেন না তারা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে, স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলায় বর্ণিত ঘটনার সময় ওই এলাকায় উপস্থিত কৃষক, পথচারী ও গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায় উল্লিখিত সমেয় এমন কিছুই সেখানে ঘটেনি। বরং এখনো সেখানে ঘনটাস্থলে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ঘটনাস্থলেই কাছেই বসবাস করা একাধিক নারী ও পুরুষ ক্যামেরার সামনেই জানান, এমন কিছু ঘটে থাকলে তারা অবশ্যই দেখতেন এবং জানতেন। কিন্তু ওইদিন এমন কিছু ঘটেছে বলেও তারা শোনেননি। 

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বদেশ প্রোপার্টিজের এমডি এম.এ কাইয়ুম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যাতা চালিয়ে যেতে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রভাবশালী এই ভূমিব্যবসায়ী দোর্দণ্ড প্রতাপে তার অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাতে বেপরোয়াভাবে পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করছেন। 

এদিকে মামলার এজাহারে আশিয়ান গ্রুপের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম এবং সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অভিযুক্ত করা হলেও সিসিটিভি ফুটেজ বলছে, ঘটনার সময় তারা নিজ কর্মস্থলে দায়িত্বরত ছিলেন। অর্থাৎ, ঘটনাস্থলে না থেকেও তাদেরকে এই গায়েবি মামলার আসামি করা হয়েছে। ১৫ এপ্রিলের সিটিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ১১ থেকে রাত প্রায় পৌনে ৮টা পর্যন্ত তারা নিজেদের কর্মস্থলে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সাধারণ ডায়েরির প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই কীভাবে এমন স্পর্শকাতর মামলা গ্রহণ করা হলো— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। নিজের আওতাধীন এলাকা সত্ত্বেও তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

ওসি আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমাদের নিয়ম আছে, আপনারা কিছু জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করেন। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করবো না।’