ফেসবুক-টেলিগ্রামে তরুণীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বিক্রির রমরমা কারবার, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
ফেসবুক ও টেলিগ্রামের বিভিন্ন গ্রুপে তরুণীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও বিক্রির এক ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও টার্গেট করে এসব অসাধু চক্র বাণিজ্যিকভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে। যদিও এরই মধ্যে এই চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে মূল হোতাদের অনেকেই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেসবুক ও টেলিগ্রামে এ ধরনের শতাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপে প্রবেশ করতে হলে গ্রাহকদের মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হয়। সাবস্ক্রিপশন নেয়ার পর সদস্যরা নারীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখার সুযোগ পায়। পুলিশ জানায়, পরিচয় গোপন রাখতে অপরাধীরা ভুয়া সিম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া (ছদ্মনাম) নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, হঠাৎ একদিন জানতে পারেন টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে তার ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। পরবর্তীতে জানা যায়, সাদিয়ার প্রাক্তন প্রেমিক প্রতিহিংসাবশত তার অজান্তে রাখা ২০-৩০টি ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ওই গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার পর সাদিয়া প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার শিকার হন এবং এক পর্যায়ে আত্মহত্যার চিন্তাও করেন।
এ বিষয়ে সাইবার বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, "কিছু অসাধু চক্র ব্যক্তিগত ভিডিও বা ছবি সংগ্রহ করে প্রিমিয়াম গ্রুপে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করছে। এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে ভয় না পেয়ে প্রথমেই পরিবারকে জানাতে হবে এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। ডিভাইস ব্যবহার ও ব্যক্তিগত ছবি ধারণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।"
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম জানান, অপরাধীরা ভুয়া পরিচয় বা সিম ব্যবহার করলেও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব। তিনি বলেন, "অপরাধীরা যেভাবেই পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করুক না কেন, তারা শেষ পর্যন্ত আইনের আওতায় আসবে এবং কঠোর শাস্তি পাবে।"
পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের সামাজিক লোকলজ্জার ভয় না পেয়ে দ্রুত আইনের আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments