নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই শুরু হলো একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে কার্যক্রম শুরু করেছে সাবেক এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক। দীর্ঘদিন পর জমানো টাকা তুলতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ আমানতকারীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত করা স্কিম অনুযায়ী গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় নির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে:
১. ২ লাখ টাকা পর্যন্ত: যাদের আমানত ২ লাখ টাকা পর্যন্ত, তারা যেকোনো সময় একবারে পুরো টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
২. ২ লাখ টাকার বেশি: যাদের জমা ২ লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে আগামী দুই বছর পর্যন্ত তুলতে পারবেন।
৩. বিশেষ সুবিধা: ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক এবং ক্যানসার বা কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত আমানতকারীরা চিকিৎসার প্রয়োজনে সীমার বাইরেও টাকা তোলার সুযোগ পাবেন।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকগুলোর শাখায় এরই মধ্যে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগানো শুরু হয়েছে। ব্যাংকিং কার্যক্রম সহজ করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়েছে:
নতুন কোনো কাগজপত্র সংগ্রহের ঝামেলা ছাড়াই আগের ব্যাংকের চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ ও ভাউচার দিয়ে লেনদেন করা যাবে।
আমানতকারীরা তাদের জমার বিপরীতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত এবং নতুন আমানতের বিপরীতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা নিতে পারবেন।
ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে।
বিগত সময়ে প্রভাবশালী গ্রুপগুলোর ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের কারণে এই শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো গভীর তারল্য সংকটে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৫ নভেম্বর প্রশাসক নিয়োগ দেয় এবং পরে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫ অনুযায়ী পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়। বর্তমানে এই ব্যাংকগুলোতে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে।
যেসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ব্যাংকে যুক্ত হয়েছেন। তবে ব্যয় কমাতে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা আপাতত ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং একই এলাকায় একাধিক শাখা থাকলে তা কমিয়ে একটি বা দুটি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, এই সংস্কারের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা ফিরবে এবং দেশের আর্থিক খাত আরও স্থিতিশীল হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর টাকা হাতে পেয়ে ধানমন্ডি শাখার এক গ্রাহক আসিফ রহমান বলেন, "টাকাটা খুব জরুরি ছিল, দীর্ঘ অপেক্ষার পর তুলতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।"
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments