Image description

বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬০০ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও পৌঁছেছে সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায়। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ব্যবসায়ীরা এখন স্বর্ণ ও রুপার দিকেই ঝুঁকছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূলত দুটি প্রধান কারণে স্বর্ণ ও রুপার দামে এই উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে:
১. যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরুর খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
২. ভূরাজনৈতিক সংকট: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৮৪.৭৪ ডলারে দাঁড়ায়, যা দিনের শুরুতে ৪ হাজার ৬০০.৩৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির গোল্ড ফিউচার্সও ২.১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৯৫.৩০ ডলারে পৌঁছেছে।

রুপার বাজারেও লেগেছে আগুনের আঁচ। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৫.১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৮৪.০৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা সর্বোচ্চ ৮৪.৬০ ডলারে উঠেছিল। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রুপার দাম শিগগিরই ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ টাকার অনেক ওপরে:

২২ ক্যারেট (ভরি): ২,২৭,৮৫৬ টাকা।

২১ ক্যারেট (ভরি): ২,১৭,৫৩৪ টাকা।

১৮ ক্যারেট (ভরি): ১,৮৬,৪৪৯ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি (ভরি): ১,৫৫,৪২৩ টাকা।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, বৈশ্বিক নীতিগত অনিশ্চয়তা না কাটা পর্যন্ত মূল্যবান ধাতুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।

মানবকণ্ঠ/আরআই