মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত পাল্টা শুল্ক (Reciprocal Tariffs) নীতিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার পর বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। আদালতের এই রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বের সব দেশের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আইনি পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সামনে আগের ‘অসম’ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আগের পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করায় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি তার আইনি ভিত্তি হারাতে পারে। এর ফলে এর আগে নির্ধারিত ১৯ শতাংশ বা ৩৩ শতাংশের মতো উচ্চ শুল্ক হার আর কার্যকর থাকছে না। তবে ট্রাম্পের নতুন ঘোষিত ১০ শতাংশ শুল্কের বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করবে।
বাণিজ্যসচিব বলেন, “১৯ শতাংশ বা তার আগের শুল্কগুলো খারিজ হয়ে যাবে। নতুন ১০ শতাংশ ট্যারিফ কীভাবে কার্যকর হয়, তা দেখতে হয়তো কয়েক দিন সময় লাগবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, তড়িঘড়ি করে সই করা ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে ভাবার এখনই সময়।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হবে, তবে যে চুক্তিটি তড়িঘড়ি করে করা হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার একটি আইনি সুযোগ আমাদের সামনে তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, সেদিকে গভীরভাবে নজর রাখতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিচ্ছেন যে, বাংলাদেশের উচিত ভারতের মতো বিভিন্ন দেশ বা জোটের (যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার চেষ্টা করা। কেবল আমেরিকার বাজারের ওপর অতি-নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প বাজার খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তাঁরা।
ট্রাম্পের এই নতুন ১০ শতাংশ শুল্কনীতি বৈশ্বিক বাণিজ্যে আবারও অনিশ্চয়তা বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অত্যন্ত কৌশলী হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments