Image description

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার হস্তান্তর বা বিক্রির অর্থ নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়াই সরাসরি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে এই অর্থের সীমা ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা।

নতুন নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহ:

১. প্রযোজ্যতা: এই সুবিধাটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

২. ব্যাংকগুলোর ক্ষমতায়ন: নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শেয়ারের ন্যায্যমূল্য নির্ধারিত থাকলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিতে পারবে। তবে লেনদেনের পরিমাণ ১ কোটি টাকার কম হলে কোনো স্বতন্ত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদনের প্রয়োজন হবে না।

৩. কমিটি গঠন: স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ব্যাংকে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে সিএফও এবং ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে সিইও-এর নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে।

৪. মূল্যায়ন পদ্ধতি: আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেট অ্যাসেট ভ্যালু , মার্কেট অ্যাপ্রোচ এবং ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো এই তিনটি পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা যাবে।

৫. সময়সীমা: ব্যাংকের কাছে আবেদনের পর কোনো অসংগতি না থাকলে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এছাড়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৪৫ দিনের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেকাংশে লাঘব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধন ও মুনাফা ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হবেন, যা দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই