Image description

বৈশ্বিক অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামার মাঝেও দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হয়ে উঠেছে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয় বা রেমিট্যান্স। বৈধ পথে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসার ফলে দেশের অর্থনীতিতে এখন নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের নতুন ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহের মানচিত্রে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন জেলা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল ৩২৯ কোটি ডলার। শুধু তাই নয়, গত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা চার মাস তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার অনন্য নজির তৈরি হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স আহরণে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ।

আগে রেমিট্যান্সের বড় অংশ নির্দিষ্ট কিছু জেলা থেকে আসলেও এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জেলাভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জের মতো জেলাগুলো থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এসেছে ১০৭ কোটি ১৭ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ কোটি ডলার বেশি। সিলেট জেলা থেকেও এসেছে প্রায় ৮৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের পাবনা, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর এবং খুলনা বিভাগের বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। হুন্ডির দৌরাত্ম্য হ্রাস পাওয়া এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সাথে খোলাবাজারের ডলারের দামের ব্যবধান কমে আসায় প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।’

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। ২০২৫ সালে ১০ লাখ ৭৪ হাজার ১৫৯ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। এর আগে ২০২৩ সালে রেকর্ড ১৩ লাখ ৯ হাজার ৮১১ জন কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। মূলত এই বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের পাঠানো অর্থই অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে।

অর্থনীতিবিদ এম. হেলাল আহমেদ জনি বলেন, ‘রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের জন্য বড় সম্পদ। তবে এই ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখতে প্রবাসীদের জন্য আরও সহায়ক নীতি গ্রহণ এবং তাদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেমিট্যান্সের এই বিস্তার শুধু রিজার্ভ শক্তিশালী করছে না, বরং তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর