বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের দাপুটে অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান এ তথ্য জানিয়েছে।
শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জাভেদ ভাই দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। আজ চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন। সবাই জাভেদ ভাইয়ের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন”।
ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। পরে তিনি সপরিবারে সেখান থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি পাঞ্জাব থেকে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ঢাকায় চলে আসেন।
ষাটের দশকে ঢাকায় বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নিয়মিত উর্দু চলচ্চিত্র নির্মিত হতো। ১৯৬৩ সালের প্রথমদিকে ঢাকাই ছবিতে অভিনয়ে সুযোগ না পেয়ে জাভেদ চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালনার কাজ শুরু করেন। তিনি চলচ্চিত্রে প্রথম নৃত্য পরিচালনা করেন ১৯৬৪ সালে কায়সার পাশার পরিচালনায় উর্দু ছবি ‘মালান’ এর মাধ্যমে। এর প্রায় তিন বছর পর ১৯৬৭ সালে ‘পুনম কি রাত’ উর্দু ছবিতে পুনরায় নৃত্য পরিচালনা করেন। তারপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।
তিনি সত্তর থেকে আশির দশক পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ছবিতে নিয়মিত নৃত্য পরিচালনা করেছেন।
১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে। তার অনেক কাজের মধ্যে ‘দোস্ত দুশমন’, ‘অন্ধ প্রেম’, এবং ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত। তার অভিনয় জীবনের সেরা সাফল্য আসে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে।
তিনি ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি নিঃসন্তান।




Comments