সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে নতুন করে লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। এই প্রকাশনার পর আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে এপস্টেইনের নাম। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে তাকে ঘিরে নির্মিত নেটফ্লিক্সের আলোচিত ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘জেফরি এপস্টেইন: ফিলথি রিচ’ নিয়ে।
২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া এই চার পর্বের ক্রাইম ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের জীবনের ভয়ংকর ও অন্ধকার অধ্যায়। ক্ষমতা, অর্থ ও প্রভাবকে ব্যবহার করে কীভাবে তিনি বছরের পর বছর ধরে অল্পবয়সী মেয়েদের শোষণ করেছেন-সেটিই সিরিজটির মূল প্রতিপাদ্য।
ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয়েছে, বিপুল সম্পদ ও উচ্চপর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এপস্টেইন কীভাবে একটি আন্তর্জাতিক যৌন পাচার চক্র গড়ে তোলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অপরাধযজ্ঞ কীভাবে আড়ালেই থেকে যায়, আর কীভাবে আইন ও প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে যায়-সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে সিরিজটিতে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এপস্টেইনের নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া নারীদের সরাসরি জবানবন্দি। সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন-কীভাবে ফাঁদে ফেলা হতো, কীভাবে ভয় ও ক্ষমতার দাপটে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হতো। একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে এপস্টেইনের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির যোগাযোগের বিষয়েও।
জেমস প্যাটারসন ও জন কনোলির লেখা বই অবলম্বনে নির্মিত এই ডকুমেন্টারি সিরিজটি পরিচালনা করেছেন লিসা ব্রায়ান্ট। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফরি এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যুর পর সিরিজটি মুক্তি পায় এবং তখনই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত বিস্তৃত প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ এবং তার অপরাধের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক-সব মিলিয়ে ‘জেফরি এপস্টেইন: ফিলথি রিচ’ শুধু একটি ডকুমেন্টারি নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারব্যবস্থার অন্ধকার দিক উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।




Comments