Image description

ব্রিটিশ লেখক জে কে রাউলিংয়ের সাত খণ্ডের কাল্পনিক উপন্যাসের একটি সিরিজ হ্যারি পটার। সারা বিশ্বে এ সিরিজের বই ও সিনেমা তুমুল জনপ্রিয়। ২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর মুক্তি পায় এই সিরিজের প্রথম সিনেমা ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন’। 

উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এ ছবির মাধ্যমেই বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান পর্দার ‘হ্যারি পটার’খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা ড্যানিয়েল র‍্যাডক্লিফ। এ সিরিজের আটটি ছবিতেই অভিনয় করেছেন তিনি, যার সবশেষ সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০৭ সালে।

যার সিনেমা দেখে একটি প্রজন্মের শৈশব কেটেছে রোমাঞ্চে, সেই অভিনেতাই কিনা খ্যাতির চূড়ায় থাকার সময়ে পা রাখেন জীবনের বিভীষিকাময় এক অধ্যায়ে। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকাকালীন আসক্ত হয়ে পড়েন সিগারেট ও অ্যালকোহলের নেশায়।

সম্প্রতি জীবনের অন্ধকার অধ্যায় নিয়েই মুখ খুলেছেন পর্দার এই ‘হ্যারি পটার’। নিজের সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা স্মরণ করে ড্যানিয়েল বলেন, ‘মাত্র ১৮ বছর বয়সেই আমি মদ্যপান ও ধূমপানে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ি। ছোটবেলায় পাওয়া আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা আমাকে অনেক কিছু ভাবাত।’

ভ্রান্ত ধারণা থেকে নেশার জগতে এসেছিলেন জানিয়ে ড্যানিয়েল র‍্যাডক্লিফ বলেন, ‘কাজ আরও ভালো হবে কিংবা ভক্তদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠব এমন ভুল ধারণা থেকেই মূলত নেশার জগতে পা বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু ফল হয়েছিল উল্টো। নেশার কারণে আমার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হতে শুরু করে।’

২০১০ সাল থেকে শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে নিজেকে নেশা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও ২০১২ সালে আবারও আগের মতো অনিয়ন্ত্রিত জীবনে ফিরে যান তিনি।

কিভাবে এ অবস্থার পরিবর্তন হয় সে সম্পর্কে অভিনেতা জানান, নেশা তার জীবনে এতটাই প্রভাব রাখতে শুরু করে যে, তার ক্যারিয়ার ও স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল।  কঠোর ফিটনেস রুটিন এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তিনি ক্ষতিকর এ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসেন। এমনকি কফি পানের অভ্যাসও কমিয়ে দেন ড্যানিয়েল।

জীবনের সেই কালো অধ্যায় পেরিয়ে বর্তমানে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন এই হলিউড তারকা।