Image description

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি নির্দেশনায় গত ৫ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে সন্ধ্যার পরের প্রদর্শনীগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলা সিনেমার বর্তমান সুসময়ে এমন পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযোজক ও নির্মাতারা।

সম্প্রতি ‘দম’-এর প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, ‘রাক্ষস’-এর শাহরিন আক্তার সুমি, ‘প্রিন্স’-এর শিরিন সুলতানা এবং নির্মাতা রায়হান রাফী ও তানিম নূর যৌথভাবে মাল্টিপ্লেক্স চালু রাখার দাবি জানিয়ে এক বিবৃতি দেন। তবে সেই বিবৃতির পর এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে নির্মাতা তানিম নূর বলেন, ‘বিবৃতি দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আশানুরূপ কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। আমরা এখনো অন্ধকারের মধ্যেই আছি।’

একই সুরে কথা বললেন ‘প্রেশার কুকার’ নির্মাতা রায়হান রাফী। তিনি বলেন, ‘অফিস শেষে দর্শকরা মূলত সন্ধ্যার শোগুলোতেই সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন। সেই শোগুলো বন্ধ থাকায় আমরা বড় একটা দর্শক হারাচ্ছি। শুক্র ও শনিবার চাপ বাড়লেও টিকিট না পেয়ে অনেকে ফিরে যাচ্ছেন। বাংলা সিনেমার যে জোয়ার এসেছিল, এমন সিদ্ধান্তে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে হল কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সরকার মার্কেট বন্ধের কথা বলেছে, সিনেমা হল নয়। কিন্তু মাল্টিপ্লেক্সগুলো মার্কেটের ভেতরে হওয়ায় ভুক্তভোগী হচ্ছি আমরা। সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো চলছে, কিন্তু মাল্টিপ্লেক্স বন্ধ থাকায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

অন্যদিকে, স্টার সিনেপ্লেক্সের সিনিয়র ম্যানেজার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, সরকারি নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তারা তা মেনে চলছেন।

যমুনা ব্লকবাস্টারের ম্যানেজার মাহবুব জানান, মার্কেট কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুটা ছাড় দিলেও রাত ৮টা বা সাড়ে ৮টার পর শো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। লায়ন সিনেমাসের কর্ণধার মির্জা আব্দুল খালেক জানান, মার্কেট বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়, ফলে দর্শক আসতে চান না। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়িও একটি বড় কারণ।

সার্বিক বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত সমন্বয় না করলে নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর