Image description

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন)। দেখতে দেখতে এই মর্মান্তিক ঘটনার ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও তার মৃত্যু নিয়ে এখনও জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ভক্তদের মনে আজও প্রশ্ন—কী ঘটেছিল সেই দিন?

জানা যায়, মৃত্যুর দিন অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার ১১/বি নম্বর ফ্ল্যাটে সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন চারজন ব্যক্তি। তারা হলেন—বাদীর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাদীর বোনজামাতা প্রয়াত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তার ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ আরও একজন।

তারা যখন ওই বাসায় পৌঁছান, তখন সালমানের স্ত্রী সামীরা হক এবং বাড়ির কর্মচারী আবুল তাদের জানান যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। এ কথা শুনে তারা আর অপেক্ষা না করে নিজেদের গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে যান। কিন্তু এর কিছু সময় পরই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমানের বাসা থেকে ফোন করে তাদের বলা হয়, ‘সালমান শাহর যেন কী হয়েছে, আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন।’

খবর পেয়ে তারা দ্রুত ইস্কাটনের ওই বাসায় ছুটে যান এবং দেখতে পান, শয়নকক্ষের খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন সালমান শাহ। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে এই জনপ্রিয় নায়ককে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। ওই দিনই (৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬) রমনা থানায় এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

এদিকে, দীর্ঘ তিন দশক পর সম্প্রতি সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে তার দেহাবশেষ বা লাশ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। লাশ তুলে নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই