ঢাকার মিরপুরে বাসা থেকে স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এ আদেশ দেন।
আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ায় আদালত জাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পৃক্ততাও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবির মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আদালতে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সঙ্গে জাহের আলভীর সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে বলে দাবি করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ২১ জুন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, জাহের আলভী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রী ইকরাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন সময় অপমানজনক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করতেন। এছাড়া বিবাহিত থাকা অবস্থায় অন্য এক নারীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্য পোস্ট করার অভিযোগও রয়েছে। মামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন ছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে একই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জামিন দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে আফরা ইবনাত ইকরাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে।
পরদিন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।




Comments