Image description

বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি বর্তমানে বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি অবিবাহিত নারীদের বিয়ের আগে নিজেদের সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন।

সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেলিনা দাবি করেন, বিচ্ছেদের আগে তার স্বামী তাকে নিজের সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য করেছিলেন। ফলে এখন তার কাছে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।

এ অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, ‘যদি নিজের সম্পদ থাকে, তাহলে বিয়ের আগে একটি চুক্তি করে নাও। নিজের সম্পত্তি আলাদা করে রাখো। শেষ পর্যন্ত সবকিছুই সম্পদের প্রশ্নে এসে দাঁড়ায়। ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি, জন্ম-মৃত্যু, সন্তান—সবকিছুর মাঝেও সম্পদের বিষয়টি বড় হয়ে ওঠে। আর এটিই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।’

এর আগেও সেলিনা জানিয়েছিলেন, ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতেই স্বামীর কাছ থেকে তিনি বিচ্ছেদের কাগজ পান। তার দাবি, জীবনের কঠিন এক সময়ে তিনি প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি স্বামীর কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপর সেই সম্পর্কও টেকেনি।

২০১০ সালে অস্ট্রিয়ান উদ্যোক্তা পিটার হ্যাগকে বিয়ে করেন সেলিনা জেটলি। ২০১২ সালে তাদের যমজ ছেলে উইনস্টন ও বিরাজের জন্ম হয়। পরে ২০১৭ সালে জন্ম নেয় আরেক ছেলে আর্থার। তাদের আরেক যমজ সন্তান শামশের জন্মের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

২০২৫ সালের নভেম্বরে সেলিনা গার্হস্থ্য সহিংসতা থেকে নারীদের সুরক্ষা আইনের আওতায় পিটারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি যৌথ অভিভাবকত্বের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তাকে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, চলতি বছরের মে মাসে মুম্বাইভিত্তিক আইন সংস্থা সেমওয়াল অ্যান্ড কোং জানায়, চলমান বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানের হেফাজত মামলার মধ্যে সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে সেলিনাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তার বিচ্ছিন্ন স্বামী পিটার হ্যাগ এবং শ্বশুর ড. উলফগ্যাং জে. হ্যাগ। মামলাটি এখনও বিচারাধীন।