সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠেছে আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় এক বিশাল আম বাগান। উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা গ্রামে ২৭ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ‘মজিদ আমপল্লী এন্ড এগ্রো পার্ক’ এখন স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে দামী আম হিসেবে পরিচিত জাপানের ‘মিয়াজাকি’ আমসহ এই বাগানে প্রায় ১০০ প্রজাতির সাড়ে পাঁচ হাজার আমগাছ রয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সম্ভাবনাময় এই আমপল্লী পরিদর্শন করেন বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেনসহ কৃষি দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী দুই ভাই মো. বশির আলী ও জামাল আলী তাদের পিতার নামে ৪ বছর আগে এই এগ্রো পার্কটি গড়ে তোলেন। বাগানে বারোমাসি ও দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় শত প্রজাতির আমের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। বর্তমানে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে পুরো বাগান। আম ছাড়াও এখানে রয়েছে মৎস্য খামার, গবাদি পশুর ফার্ম, দেশি মুরগি ও ভেড়া উৎপাদন কেন্দ্র। এছাড়া সুপারী, নারিকেল, খেজুর, লিচু এবং উন্নত জাতের কলার বিপুল সমাহার রয়েছে এই পার্কে।
বাগান পরিদর্শন শেষে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “প্রবাসী বশির আলী প্রবাসে থেকেও দেশের মাটিতে এমন একটি অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। এই আমপল্লী কেবল ফলের চাহিদা মেটাবে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে। আমরা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করব।”
পরিদর্শনকালে বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনমুন হোসেন কৃষি কর্মকর্তার কাছে বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে পরামর্শ চাইলে তাকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মুজাম্মেল হক, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বীরেন্দ্র চন্দ্র নাথ, বিপ্রেশ তালুকদার এবং বিশ্বনাথ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শাহীন উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সায়েস্তা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক অজিত চন্দ্র দেব, সদস্য এস এ সাজুসহ বাগানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
উদ্যোক্তারা মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সঠিক বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে বিশ্বনাথের এই অর্গানিক আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments