Image description

কাপ্তাই হ্রদের শান্ত নীল জলরাশি আর পাহাড়ের মিতালিতে ঘেরা রাঙ্গামাটির পলওয়েল পার্ক এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। বিশেষ করে ভালোবাসা দিবসে পার্কের ‘লাভ পয়েন্ট’ বা ‘লাভ লক’ পয়েন্ট হয়ে উঠেছে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। নিজেদের ভালোবাসার স্মৃতিকে ফ্রেমবন্দি করতে এখানে ভিড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য নবদম্পতি।

সরেজমিনে দেখা যায়, হ্রদের পাড়ে পাহাড় ঘেঁষে তৈরি করা হৃদয় আকৃতির লাল রঙের এই স্থাপনাটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলায় মেতেছেন পর্যটকরা। আধুনিক এই ‘লাভ লক’ ঐতিহ্যের আদলে নবদম্পতিরা নিজেদের নামের আদ্যক্ষর লেখা তালা এই পয়েন্টে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন এবং চাবিটি হ্রদের পানিতে নিক্ষেপ করছেন। তাদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে তাদের ভালোবাসার বন্ধন সারা জীবনের জন্য অটুট থাকবে।

বিয়ে হয়েছে মাত্র এক মাস, এমন এক নবদম্পতি শফিউল ও নাসরিন। তারা রাঙ্গামাটির স্থানীয় হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা। তারা জানান, দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই ভালোবাসার এই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে আসতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা একটি তালা ঝুলিয়ে এর চাবি হ্রদে নিক্ষেপ করেন এবং নিজেদের বন্ধন অটুট রাখার প্রার্থনা করেন। 

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে সপরিবারে আসা লোকমান উদ্দিন বলেন, “ভালোবাসা দিবসে কাপ্তাই হ্রদের এমন মনোরম পরিবেশে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সময় কাটাতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।”

রাঙ্গামাটির এই ‘লাভ পয়েন্ট’ নির্মাণের পেছনে রয়েছে একটি করুণ অথচ অমর প্রেমের কাহিনী। ২০১৪ সালে কাপ্তাই হ্রদে এক নৌকা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আমেরিকা প্রবাসী আলাউদ্দিন পাটোয়ারী ও তার স্ত্রী আইরিন সুলতানা লিমা। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ঠিক এই স্থানেই তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল একে অপরকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায়। তাদের সেই অবিচ্ছিন্ন ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে এবং পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ তৈরি করতে ২০১৮ সালে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ এই ‘লাভ পয়েন্ট’ স্থাপন করে।

বর্তমানে এটি কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্রই নয়, বরং আধুনিক যুগের ‘লাইলী-মজনু’ বা ‘রোমিও-জুলিয়েট’ খ্যাত সেই প্রবাসী দম্পতির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি প্রকৃতির কোলে ভালোবাসার এই অনন্য ফ্রেমটি পর্যটকদের কাছে দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর