Image description

পাহাড়ের চূড়ায় দুলতে থাকা আমের মুকুল যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে একটি সফল ও মিষ্টি মৌসুমের

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতির রূপ বদলে গেছে  পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতেও। শীতের বিদায়ী বেলায় কুয়াশার পাতলা চাদর সরিয়ে পাহাড়ের ঢালে আর চূড়ায় উঁকি দিচ্ছে সোনালী আভার আমের মুকুল। রাঙ্গামাটির পাহাড়ি বাগানগুলো এখন মুকুলের ম ম গন্ধে মৌ মৌ করছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাহাড়ের বাগানগুলোতে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আম্রপালি, রাংগুয়াই এবং বিদেশি জাতের কাটিমন ও মিয়াজাকি আমের গাছে মুকুলের সমারোহ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ গাছের মাথায় সোনালী মুকুল দেখে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় আম চাষিরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ের অর্থকরী ফসলের মধ্যে আম এখন অন্যতম। মুকুলের এই প্রাচুর্য কেবল পাহাড়ের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং জুম চাষের পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অর্থনীতিতে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। বসন্তের এই স্নিগ্ধ সকালে পাহাড়ের চূড়ায় দুলতে থাকা আমের মুকুল যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে একটি সফল ও মিষ্টি মৌসুমের।

রাঙ্গামাটি বড়াদম এলাকার  বাগান মালিক  সমরেশ চাকমা জানান, "এ বছর শীতের তীব্রতা গতবারের চেয়ে কিছুটা কম থাকায় মুকুল তাড়াতাড়ি এসেছে। এখন সকালের কুয়াশা একটু কাটলেই মুকুলের চেহারা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে এবার রেকর্ড পরিমাণ ফলন পাব বলে আশা করছি।"

একই এলাকার বাগান মালিক মোহনলাল চাকমা জানান, এ বছর তার বাগানে ভালো আমের মুকুল এসেছে। আশা করছেন আমের ভালো বাম্পার ফলন হবে।

তবে কৃষকদের মনে কিছুটা দুশ্চিন্তাও রয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ভোরের ঘন কুয়াশা অনেক সময় মুকুলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ফাঙ্গাসের আক্রমণ ঘটাতে পারে।
 
এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, চাষিদের নিয়মিত বাগান পরিদর্শন এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন। 

তিনি আরও জানান, এবছর ৩ হাজার ৬ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ করা হয়েছে।