জিয়ানগরে তৈরী হচ্ছে বিষমুক্ত শুটকি, সফলতা পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা
পিরোজপুরের জিয়ানগরে কচাঁ নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর হচ্ছে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর। এ সামুদ্রিক মৎস্য বন্দরের পাশে চিতলিয়ার কচাঁ নদীর চরে গড়ে ওঠেছে শুঁটকি পল্লী। এখানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করা হচ্ছে ঢেলা, মরমা, ফ্যাপসা, কংকন, ছুরি, লইট্যা, চাপিলাসহ ৩৫ প্রজাতির মাছের শুঁটকি। যা স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অন্যদিকে এই শুটকি পল্লীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান। এখানে পাশাপাশি প্রায় ৭টি শুটকি পল্লী রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার কচাঁ নদীর তীরে বাদুরা সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এখানে সমুদ্র থেকে আহরণ করা মাছগুলো বিক্রি করা হয়। আর এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাশেরই চিথলিয়া গ্রামের নদীর চরে গড়ে উঠেছে শুটকি পল্লী। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই স্থানে তৈরি করা হয় ঢেলা, ফুটপোয়া, মরমা, বেঁজি, ফ্যাপসা, কংকন, ছুরি, লইট্যা, বাইন, চাপিলা, লাউক্য, হাইতাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছের শুঁটকি। এর মধ্যে লাউক্য ও হাইতা মাছের দাম সব থেকে বেশি। বর্তমানে শুটকি তৈরি মৌসুমের শেষ সময়েও চলছে চরম ব্যস্ততা। সকালে মৎস্য বন্দর থেকে সামুদ্রিক মাছ ক্রয় করে শুটকি পল্লীতে এনে মাছ কেটে ধুয়ে পরিস্কার করে রোধে শুকাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে শুটকি তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। এই পল্লীতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন প্রায় দেড়শতাধিক শ্রমিক।
শুটকি ব্যবসায়ী আলি সরদার বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে একটি মাছের শুটকি তৈরি করতে ৫ থেকে ৮ দিন সময় লাগে। বিষ বা কোন প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ছাড়া তৈরি এ শুটকির চাহিদা দিনদিন বাড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এখন থেকে প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকার শুটকি আমরা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে থাকি।
শুটকি ব্যবসায়ী ইমাম বেপারী বলেন, এখানে আমরা প্রায় ১৩ বছর ধরে শুটকি তৈরী করি। এখানকার শুটকিমাছ ৩ শত টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি বিক্রি হয়। আমাদের এ ব্যবসা চালিয়ে যেতে কষ্ট হয়। তবে আমাদের এই শুটকি পল্লীতে সরকারি কিছু সহযোগীতা পেলে এই অঞ্চলে শুটকির একটি বড় বাজার তৈরি করা সম্ভব।
মো: সোহাগ খান নামে আরও এক ব্যবসায়ী বলেন, বঙ্গপ সাগর থেকে ট্রলারে করে জেলেরা মাছ ধরে এনে এখানে বিএফডিসিতে বিক্রি করে। সেখান থেকে আমরা কিনে এনে ভালো করে ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে শুটকি তৈরী করে বাজারজাত করি। শুধু চিংড়ী মাছ বাদে সকল মাছ এখানে তৈরী করা হয়। এখানের মাছটা মিষ্টি পানির হওয়ায় খুব স্বাদ হয়। আমরা এখানে অনেক বছর ধরে এ ব্যবসা করি, কিন্তু কখনো সরকারি কোন ঋণ আমরা পাইনি। সরকারের কোনো সাহায্য আমরা পাই না।
ব্যবসায়ী আকিজুল বেপারী বলেন, আমাদের এই শুটকি পল্লীতে সরকারের কাছে আমরা ঋণের জন্য বার বার দাবী করি কিন্তু আমাদের ঋণ দিচ্ছে না, ঋণ দিলে আমরা আরও ভালো করে এ ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবো। এছাড়া সীজনের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টি হলে আমাদের এ ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হয়।
জিয়ানগর উপজেলা মৎস্য কর্মকতা ফাহাদ রহমান বলেন, এই শুটকি পল্লী জিয়ানগর ও পিরোজপুর সদর উপজেলা সংশ্লিষ্ট এখানে অনেক সম্ভবনা রয়েছে এবং এখানে সঠিক ভাবে তদারকি করলে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে। এই শুটকি পল্লীতে শীত মৌসুমে ৯-১০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদন হয়ে থাকে, এখন থেকে বছরে প্রায় কোটি টাকার শুটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারি তদারকি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত হলে এটি এই জেলার অন্যতম একটি কর্মসংস্থানের স্থান তৈরি হবে।




Comments