গ্রীষ্মের দাবদাহে রঙিন স্বস্তি, টুঙ্গিপাড়ায় ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া-সোনালু-জারুল
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন হাঁপিয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই প্রকৃতিতে ভিন্ন এক প্রশান্তির বার্তা নিয়ে ফুটে উঠেছে হলুদ সোনালু, রক্তিম কৃষ্ণচূড়া ও বেগুনি জারুল। টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন সড়ক ও জনপদ এখন এসব ফুলের রঙিন ছোঁয়ায় সেজেছে অপরূপ সাজে।
উপজেলার বিভিন্ন পথ-ঘাটে দেখা গেছে, সবুজের বুক চিরে ফুটে থাকা সোনালুর হলুদ, কৃষ্ণচূড়ার উজ্জ্বল লাল ও জারুলের বেগুনি ফুল প্রকৃতিকে করেছে বর্ণিল। তপ্ত রোদে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়লেও এই ফুলের সৌন্দর্য পথচারীদের চোখে এনে দিচ্ছে স্বস্তি।
সরেজমিনে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জিটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে দেখা যায়, রাস্তার পাশে থাকা কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু গাছের ফুলে পুরো এলাকা রঙিন হয়ে উঠেছে। গাছগুলোর সৌন্দর্যে বিমোহিত হচ্ছেন পথচারীরা। একইভাবে পাটগাতি বাসস্ট্যান্ডের টোল প্লাজা এলাকা ও টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আশপাশেও জারুল ফুল ছড়াচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য।
গিমাডাঙ্গা গ্রামের কসমেটিক্স ব্যবসায়ী হাফিজুর বিশ্বাস বলেন, “ছোটবেলায় এই গাছ অনেক দেখতাম, এখন তা অনেকটাই কমে গেছে। সোনালু গাছ সাধারণত যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে, কিন্তু ফুল ফুটলে তার সৌন্দর্য সবার মন কেড়ে নেয়।”
টুঙ্গিপাড়া বাস টার্মিনালের সামনে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়ালে পাওয়া যায় প্রশান্তির ছোঁয়া। মধুমতি নদীর শাখা খালের পাড়ে অবস্থিত এই গাছটির ছায়া ও শীতল বাতাস পথচারীদের আকর্ষণ করছে। অনেকেই এখানে এসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউবা ছবি তুলছেন।
টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “ফুল আমার খুব প্রিয়। গ্রীষ্মকালে প্রকৃতি নিজের মতো করে সাজে। আমাদের সবারই উচিত বেশি বেশি গাছ লাগানো, বিশেষ করে সোনালু, কৃষ্ণচূড়া ও জারুল।”
টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদ মিয়া বলেন, “বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। প্রতিটি ঋতুই প্রকৃতিতে ভিন্নতর রূপবৈচিত্র নিয়ে আসে। গ্রীষ্মেও প্রকৃতি তার নিজস্ব সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। টুঙ্গিপাড়ার রাস্তার দুপাশে থাকা কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু গাছ যেমন সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, তেমনি পথচারীদের মনেও প্রশান্তি এনে দিচ্ছে।”
গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শুকলাল বিশ্বাস বলেন, “কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ শোভাবর্ধনকারী গাছ। এর উজ্জ্বল রঙ পরিবেশকে নান্দনিক করার পাশাপাশি মানুষের মনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
বৃক্ষপ্রেমী ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দৈনিক মানবকণ্ঠের রিপোর্টার এমদাদুল হক বলেন, “একসময় ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-পিরোজপুর মহাসড়কে প্রচুর কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখা যেত, যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। এই গাছ যেমন ছায়া দেয়, তেমনি এর ফুল পাখিদের আকৃষ্ট করে। তাই বেশি করে এসব গাছ লাগানো প্রয়োজন।”




Comments