Image description

নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে একটি গ্রামে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা অসংখ্য দোকানপাট লুট করে এবং স্থানীয় বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার কাসুওয়ান-দাজি গ্রামের পাশের একটি বন থেকে সশস্ত্র হামলাকারীরা বেরিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা স্থানীয় বাজারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দোকানপাট লুট করে এবং বেশ কিছু মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।

বিবিসি হাউসা সার্ভিসকে একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, বন্দুকধারীরা মোটরসাইকেলে করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শহরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে সাধারণ মানুষকে ঘেরাও করে এবং এরপর অনেককে গুলি করে ও জবাই করে হত্যা করে।

নাইজেরিয়ায় বছরের পর বছর ধরে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রের হামলা ও অপহরণ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দেশটির পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এ ধরনের সহিংসতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

নাইজার রাজ্য জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার কর্মকর্তা আবদুল্লাহি রোফিয়া নিহতের সংখ্যা ও ঘটনার ভয়াবহতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রামবাসীরা প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছেন। তারা এতটাই ভীত যে কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন না। তাদের ভয়, কথা বললে হামলাকারীরা ফিরে এসে আবার তাদের ওপর আক্রমণ করবে।

নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানিয়েছেন, আহতদের সাহায্য করার জন্য একটি জরুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে।

নাইজেরিয়া সরকার এসব অপরাধী চক্রকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং তাদের মুক্তিপণ দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই নিষেধাজ্ঞা মানা হয় না।

হামলার শিকার একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমরা সরকারের সাহায্য চাই। আগে এসব সমস্যার কথা অন্য এলাকায় শুনতাম, কিন্তু এখন আমাদের গ্রামেই তা ঘটছে। আমরা মুরগির মতো মরছি, সরকার কি আমাদের তোয়াক্কা করে? সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের আর কী করার আছে? আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন নাইজার রাজ্য কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে স্কুলগুলো পুনরায় খোলার ঘোষণা দিয়েছিল। 

এর আগে বড় ধরনের অপহরণের ঘটনার জেরে স্কুলগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। গত নভেম্বরে নাইজার রাজ্যের পাপিরির সেন্ট মেরি’স ক্যাথলিক স্কুল থেকে ২৫০ জনেরও বেশি ছাত্র ও শিক্ষককে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে বড়দিনের ঠিক আগে তাদের সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তথ্যসূত্র : বিবিসি