রয়টার্সের প্রতিবেদন
কারাকাস থেকে গ্রেপ্তার মাদুরোর বিচার শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মার্কিন আদালতে হাজির হচ্ছেন ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মাদুরো
মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সোমবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে তোলা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক আকস্মিক অভিযানে সস্ত্রীক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তেলসমৃদ্ধ এই দক্ষিণ আমেরিকান দেশটির ভবিষ্যৎ যখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তোলা হচ্ছে।
৬৩ বছর বয়সী নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে ব্রুকলিনের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত সপ্তাহের শেষের দিকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর এক ঝটিকা অভিযানে তাদের আটক করা হয়। সোমবার ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম দুপুর ১২টায় মার্কিন জেলা বিচারক আলভিন কে. হেলারস্টেইনের আদালতে তাদের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তারা কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না বা নিজেদের দোষ স্বীকার করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে মাদুরো নিজেকে জয়ী ঘোষণা করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে একজন ‘অবৈধ একনায়ক’ হিসেবে বিবেচনা করে আসছিল। মাদুরোকে গ্রেপ্তারের এই ঘটনাটি গত ৩৭ বছর আগে পানামায় মার্কিন আগ্রাসনের পর লাতিন আমেরিকায় ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং বড় ধরনের হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মাদুরো ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশাল মাদক পাচারকারী চক্রের মূল হোতা বা ‘কিংপিন’। তিনি কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন মাদক চোরাকারবারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আঁতাত করে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার টন কোকেন পাচার করেছেন।
২০২০ সালে প্রথম মাদক পাচারের অভিযোগে মাদুরোর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে গত শনিবার প্রকাশিত নতুন চার্জশিটে প্রসিকিউটররা দাবি করেছেন, মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে একটি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট কোকেন পাচার নেটওয়ার্ক তদারকি করতেন। এই নেটওয়ার্কটি মেক্সিকোর শীর্ষ মাদক কার্টেল ‘সিনালোয়া’ ও ‘জেতাস’, কলম্বিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘ফার্ক’ এবং ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত গ্যাং ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করত।
নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এবং ডি-ফ্যাক্টো শাসক হিসেবে মাদুরো তার নিজের, তার পরিবার এবং তার শাসনামলের সদস্যদের সুবিধার জন্য মাদকের অর্থে পুষ্ট দুর্নীতিকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে তার কয়েক দশক থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রসিকিউটররা আরও জানান, ২০০০ সালে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হওয়ার সময় থেকেই মাদুরো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট বিক্রি করেছিলেন এবং মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায় মাদকের অর্থ বহনকারী ফ্লাইটের জন্য কূটনৈতিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। এমনকি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি সামরিক বাহিনীকে মাদক পাচারের রুট পাহারায় ব্যবহার করেছেন এবং খোদ প্রেসিডেন্সিয়াল ভবনগুলোকেও মাদক আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স




Comments