Image description

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন চরম সহিংসতার রূপ নিয়েছে। দেশটির শহরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে শত শত মানুষ হতাহত হচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইরানের হাসপাতালগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। গুরুতর আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ বিক্ষোভকারীর মাথায় এবং বুকে সরাসরি গুলি করা হয়েছে। মর্গে জায়গা না থাকায় বহু মরদেহ হাসপাতালের প্রার্থনা কক্ষে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। নিহতদের একটি বড় অংশই ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ। উত্তর ইরানের রাশত্ শহরের একটি হাসপাতালেই এক রাতে অন্তত ৭০টি মরদেহ নিয়ে আসার খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে। এদিকে, ইরান সরকার এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের উস্কানিকে দায়ী করলেও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের 'স্বাধীনতাকামী' হিসেবে অভিহিত করে তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকায় সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবুও বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা রাজপথ ছাড়েননি। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই সরকার পিছু হটবে না। সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা ও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

মানবকণ্ঠ/আরআই