Image description

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলো যেন এখন হলুদ রঙের এক অপূর্ব রাজ্যে পরিণত হয়েছে। দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে ফুটে থাকা সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে কৃষকের জমি। হিমেল বাতাসে দুলে দুলে নাচছে সরিষা গাছ, আর গুণগুণ সুরে মধু আহরণে মাঠে ছুটে চলছে অসংখ্য মৌমাছি। প্রকৃতি আর পরিশ্রমের এই অপূর্ব মেলবন্ধনে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরিষার ফুলে মৌমাছির আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় পরাগায়ন দ্রুত হচ্ছে। এতে সরিষার শুঁটি ও দানা ভালোভাবে গঠিত হচ্ছে, যা ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে একদিকে যেমন সরিষা চাষিরা লাভের মুখ দেখছেন, অন্যদিকে মৌচাষিরাও মধু সংগ্রহে ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাজিপুর উপজেলায় ২২ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। গেল মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় চলতি বছর উৎপাদন বিগত বছরের তুলনায় আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বছর সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার ৫৭০ হেক্টর।

সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৭, বিনা-৯, টরি-৭ ও বিজ জাতের বীজ। পাশাপাশি সরিষার ফলন বৃদ্ধি ও রোগবালাই দমনে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া সরিষা চাষের জন্য বেশ অনুকূল থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

সময়মতো পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক পরাগায়নের সুফল পেলে চলতি মৌসুমে কাজিপুর উপজেলায় সরিষা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হতে পারে।সব মিলিয়ে হলুদ ফুলে ভরা মাঠ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, কৃষকের মুখেও হাসি ফোটাচ্ছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা এই হলুদ স্বপ্ন কতটা সোনালি ফসল হয়ে ঘরে ওঠে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর