Image description

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে হত্যার ঘটনায় দায়ী তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে আদালত জাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, পরিবারের অর্থনৈতিক দুঃসময়ের ফলে জন্ম নেওয়া ক্ষোভ ও চার্চ সংক্রান্ত আঘাত তার হত্যাকাণ্ডের মূল প্রেরণা ছিল।

২০২২ সালের জুলাইয়ে নির্বাচনী প্রচারের সময় আবে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইয়ামাগামি হাতে তৈরি বন্দুক নিয়ে গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করা হয়। আদালতে আইনজীবীর বয়ান অনুযায়ী, ইয়ামাগামি ভেবেছিলেন, চার্চের কারণে পরিবারের কষ্ট জনসম্মুখে আনতে এবং চার্চের দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করলে তা সম্ভব হবে।

ইয়ামাগামির পরিবার ‘ইউনিফিকেশন চার্চ’-এ নিয়মিত দান করত। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হয়ে যায়। বাবা আত্মহত্যা করেন, আরেক ছেলে গুরুতর অসুস্থ হন। ইয়ামাগামির মা এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় চার্চে প্রায় ১০ কোটি ইয়েন (প্রায় ১০ লাখ ডলার) দান করেন। ফলে পরিবার দেউলিয়া হয়ে যায় এবং ইয়ামাগামির উচ্চশিক্ষার স্বপ্নও শেষ হয়।

আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, ইয়ামাগামি শৈশব থেকেই চার্চের প্রতি মায়ের অন্ধবিশ্বাস এবং পরিবারের ‘ধর্মীয় নির্যাতন’জনিত সমস্যার শিকার হন। ২০০৫ সালে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, তবে ব্যর্থ হন। ২০২০ সালে নিজের অস্ত্র বানিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেন।

আবে হত্যাকাণ্ডের পর অনুসন্ধান চলাকালে দেখা গেছে, ইউনিফিকেশন চার্চ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এর ফলে চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন।

শিনজো আবে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পরপর তিনবার পালন করেছেন। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মানবকণ্ঠ/আরআই