শক্তিধর দেশের অর্থনৈতিক হুমকির মুখে বিশ্বব্যবস্থায় ভাঙন: কানাডার প্রধানমন্ত্রী
শক্তিধর দেশের অর্থনৈতিক হুমকির মুখে বিশ্বব্যবস্থা ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না। তাই মধ্যম শক্তির দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় কার্নি এসব কথা বলেন। সাধারণত শক্তিধর দেশ বলতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের বোঝানো হয়। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য। মধ্যম শক্তির দেশ বলা হয় কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোকে। এসব দেশের অর্থনীতির আকার তুলনামূলক ছোট হলেও বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।
মার্ক কার্নি বলেন, মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতেই হবে। কারণ মধ্যম শক্তিরা যদি আলোচনার টেবিলে না থাকে, তাহলে তাদের ‘মেন্যুতে’ পরিণত করা হবে। পরাশক্তির দেশগুলো এরই মধ্যে নিজেদের ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ শুরু করেছে।
মার্ক কার্নির মতে, পরাশক্তিগুলো তাদের অর্থনৈতিক সংহতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার বানিয়েছে। আর্থিক অবকাঠামোকে জবরদস্তির উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে। সরবরাহ শৃঙ্খলকে দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করে কাজে লাগাতে চাইছে।
বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও ন্যাটো জোটের প্রতি কানাডার সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মার্ক কার্নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে হস্তান্তর না করলে এরই মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের মতো কানাডার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ব্যাপারেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাকাঙক্ষা সামনে আসে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করেন। সেটির ওপর আমেরিকার পতাকার ছবি বসানো ছিল।
ভৌগোলিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক জোট এখন আর নিরাপত্তা বা সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয় না বলেও উল্লেখ করেন কার্নি। বলেন, ‘কানাডা এরই মধ্যে বিষয়টি বুঝতে পেরেছে।’ কার্নির এই কথাটি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপকে ইঙ্গিত করে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেই কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রকে একত্র করার হুমকি দেন। এরপরই অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার হওয়া স্বত্ত্বেও অটোয়ার ওপর উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপ শুরু করে ওয়াশিংটন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তাঁর দেশ দৃঢ়ভাবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পাশে আছে। সংস্থাটির অনুচ্ছেদ-৫ এর প্রতি সব সদস্যের অঙ্গীকার অটল রাখা উচিত।’ ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫ অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর আক্রমণকে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
মার্ক কার্নি বলেন, ‘পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কানাডা এখন অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছে। সাধারণ মূল্যবোধ ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন জোট তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।’ এর উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি চীন ও কাতারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি এবং গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সরবরাহ চুক্তির কথা উল্লেখ করেন।




Comments