ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে গত সপ্তাহান্তে নিখোঁজ হওয়া একটি মৎস্য নজরদারি বিমানের ১০ জন আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের (আইএটি) মালিকানাধীন 'এটিআর ৪২-৫০০' টার্বোপ্রপ বিমানটি গত শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে (০৫৩০ জিএমটি) দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস অঞ্চলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে।
বিমানটিতে সাতজন ক্রু এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক ও মৎস্য মন্ত্রণালয় তাদের মৎস্য সম্পদ আকাশপথে নজরদারির জন্য বিমানটি ভাড়া করেছিল। বিমানে থাকা যাত্রীরা ওই মন্ত্রণালয়েরই কর্মী ছিলেন।
দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তা আন্দি সুলতান একটি ভিডিও বিবৃতিতে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, শুক্রবার ভোরে নবম ও দশম মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ এখনো চলছে। উদ্ধারকারী সংস্থা তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে উদ্ধারকারীরা মারোস অঞ্চলের মাউন্ট বুলুসারাউং-এর বিভিন্ন স্থানে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। দুর্ঘটনাস্থলটি রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার (৯৩০ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন সুরক্ষা কমিটি (কেএনকেটি), যারা বড় ধরনের দুর্ঘটনা তদন্ত করে থাকে, তারা সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া বিমানের 'ব্ল্যাক বক্স' থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। কমিটির প্রধান চলতি সপ্তাহে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
ফরাসি-ইতালীয় কোম্পানি এটিআর-এর তৈরি 'এটিআর ৪২' মডেলের বিমানের ক্ষেত্রে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম কোনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর আগে ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলে ট্রিগানা এয়ার সার্ভিসের একটি এটিআর ৪২-৩০০ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৫৪ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২১ সালে শ্রীবিজয়া এয়ারের একটি বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বিমান জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়ে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি




Comments