Image description

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল করা উচিত—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইউরোপজুড়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের প্রস্তাব নিয়ে জার্মানিতে জোর বিতর্ক চলছে। ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা রয়েছে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) একজন সংসদ সদস্য জার্মান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবৈধভাবে গ্রিনল্যান্ড দখল করে, তবে সেখানে কোনো ‘আনন্দঘন ফুটবল উৎসব’ হওয়ার কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না।

দলটির অন্য এক নেতা জুরগেন হার্ড ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা যেন গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখেন যে, এমন পরিস্থিতিতে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া কতটা সমীচীন হবে। তিনি মনে করেন, টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পকে "সঠিক পথে আনার শেষ উপায়" হতে পারে।

হার্ড সংবাদমাধ্যম মেট্রো-কে বলেন, "সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা আছে—এই বার্তাটি ট্রাম্প প্রশাসন এবং আমেরিকার জনগণের কাছে আমাদের জোরালোভাবে পৌঁছে দিতে হবে।"

সিডিইউ-এর আরেক সংসদ সদস্য রডারিখ কিসওয়েটার বলেন, "ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত তার হুমকিগুলো বাস্তবায়ন করেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেন, তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কল্পনা করা কঠিন হবে।"

তবে ক্রীড়ামন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান শেন্ডারলেইন (সিডিইউ) ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, "ক্রীড়া ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ বা বয়কট করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নিজস্ব বিষয়, রাজনীতিবিদদের নয়।"

জনমত কী বলছে?

ইনসা পোলিং কোম্পানির একটি জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করলে জার্মানির জনগণের একটি বড় অংশ বয়কট সমর্থন করবে। জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন, ৩৫ শতাংশ বিপক্ষে এবং ১৮ শতাংশ নিশ্চিত নন।

জনসাধারণের মধ্যেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বার্লিনের বাসিন্দা বার্ন্ড কিফেল মনে করেন, রাজনৈতিক কারণে খেলাধুলা বন্ধ করা ঠিক নয়। তিনি ১৯৮০ ও ১৯৮৪ সালের অলিম্পিক বয়কটের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এতে অ্যাথলিটরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, ট্রাম্পের ওপর কোনো না কোনোভাবে চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

আর্থার নামে এক ব্যক্তি স্পষ্টভাবে বয়কটের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, "ইউরোপের উচিত নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ভাবা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা।"

অন্যদিকে, হফম্যান নামে এক ব্যক্তি দ্বিধা প্রকাশ করে বলেন, "ফুটবলারদের দোষ কী? তারা তো খেলতে চায়।"

ফ্রাঙ্ক নামে একজন মনে করেন, বয়কট হয়তো ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারবে না, কিন্তু একটি কঠোর বার্তা দেওয়ার জন্য এটি জরুরি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন, "খেলাধুলা এবং রাজনীতিকে কি আলাদা রাখা উচিত নয়?"

সামগ্রিকভাবে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে জার্মানির রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট প্রশ্নে আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু