চীনের এক ৫৯ বছর বয়সী নারী আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) চিকিৎসার মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি নিজ শহরের সবচেয়ে বয়স্ক প্রসূতি হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। বিদেশে বসবাসরত কন্যার কারণে একাকিত্ব থেকেই আরেকটি সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশের ঝাংজিয়াগাং শহরের নং–১ পিপলস হাসপাতালে গত ৯ জানুয়ারি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের সময় নবজাতকের ওজন ছিল ২ দশমিক ২ কেজি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম jsnews.org.cn–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মা হওয়া ওই নারীর নাম ঝৌ। তিনি ইতোমধ্যে শহরের সবচেয়ে বয়স্ক গর্ভবতী নারী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
ঝৌ বলেন, “শিশুটিকে দেখার পর ও তার কান্না শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি ভীষণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। কখনো ভাবিনি আমার স্বপ্ন সত্যি হবে।”
ঝৌর আগে থেকেই একটি প্রাপ্তবয়স্ক কন্যাসন্তান রয়েছে, যিনি বর্তমানে বিদেশে বসবাস করছেন।
তিনি জানান, “আমার মেয়ে বিদেশে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি ও আমার স্বামী নিজেদের খুব একা মনে করছিলাম।”
দুই বছর আগে দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ঝৌ। এরপর তিনি গর্ভধারণের প্রস্তুতি হিসেবে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে শুরু করেন। গত বছর আইভিএফ প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি গর্ভধারণে সক্ষম হন।
গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় চিকিৎসকরা তার বয়স বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ প্রসূতিবিদ গুও হুইপিং জানান, “৫৯ বছর বয়সে গর্ভধারণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ বয়সে জটিলতা ও ভ্রূণের অস্বাভাবিকতার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।”
ঝৌ বলেন, “চিকিৎসকরা নিয়মিত আমাকে বার্তা পাঠিয়ে আমার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতেন। আমি যেন একটি পান্ডার মতো—সব সময় বিশেষভাবে সুরক্ষিত ছিলাম।”
তবে পুরো গর্ভকাল ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। তার রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করতে থাকে। অ্যালবুমিন, ইউরিক অ্যাসিড ও কিডনি–সংক্রান্ত সমস্যাও দেখা দেয়। পাশাপাশি তার পা মারাত্মকভাবে ফুলে যায়।
শেষ পর্যন্ত গর্ভাবস্থার ৩৩ সপ্তাহ ৫ দিনে সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।
গুও হুইপিং বলেন, “এটি ছিল এক ভয়ংকর চ্যালেঞ্জ, আর ঝৌ সত্যিই একজন সাহসী মা।”
প্রতিবেদনে ঝৌর স্বামী বা কন্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
চীনে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। গত ডিসেম্বরে উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় জিলিন প্রদেশে ৬২ বছর বয়সী এক নারীর গর্ভধারণ নিয়েও আলোচনার সৃষ্টি হয়। ওই নারী জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একমাত্র ছেলেকে হারানোর পর তিনি দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে বেইজিং পৌর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, চলতি বছর থেকে অবসরপ্রাপ্ত নারীরা সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় গর্ভকালীন পরীক্ষার খরচ ফেরত পাবেন। দ্রুত বার্ধক্যজনিত সমাজে সন্তান জন্মে উৎসাহ দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
৫৯ বছর বয়সী ঝৌর ঘটনা নিয়েও অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, “এ বয়সে সন্তান নেওয়া ঠিক হয়নি। শিশুর দেখাশোনার মতো শক্তি তার থাকবে না, আর এটি শিশুর জন্যও নিষ্ঠুর।”
অন্য একজন লেখেন, “আমাদের দেশ তরুণদের ওপর চাপ না দিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের সন্তান নেওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তাদের সময় আছে, পেনশন আছে—এটি হতে পারে নিখুঁত সমাধান।”
তথ্যসূত্র: সাউথ মর্নিং চায়না পোস্ট




Comments