Image description

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি গভীর নলকূপের সেচ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের পত্নীচড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় আলমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর মাস্টার দীর্ঘ দিন ধরে গ্রামের ৭ জন সদস্য নিয়ে একটি গভীর নলকূপ পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোস্তার নেতৃত্বে স্থানীয় জমির প্রকৃত মালিকরা নলকূপটির সদস্য হওয়ার দাবি তোলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে জাহাঙ্গীর মাস্টারের পক্ষ থেকে নলকূপের ঘরে তালা দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর মোস্তার নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সেখানে এসে তালা ভেঙে ফেলে। পুনরায় জাহাঙ্গীর মাস্টারের লোকজন সেখানে তালা লাগাতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মোস্তা পক্ষের শফিকুল, সাদেকুল, গোলাপ মিয়া, রফিকুল, মুক্তার মিয়া এবং জাহাঙ্গীর মাস্টার পক্ষের জাহাঙ্গীর মাস্টার নিজে, গোলাম মোস্তফা, নাছিম মিয়া, রবিউল, খোরশেদ ও দুলা মিয়াসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের কয়েকজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে।

পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা জানান, "গভীর নলকূপের সেচ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে স্থানীয় কৃষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের কারণে যদি নলকূপটি বন্ধ থাকে, তবে কয়েকশ একর জমির বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত এই সংকটের প্রশাসনিক সমাধান দাবি করেছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর