Image description

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সহিংস হামলা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেয়া দেশটির বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশেই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও, চলমান সহিংসতা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও, এটি দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চল। তেল, গ্যাস, স্বর্ণ, তামা ও কয়লার মতো বিপুল খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে।

গত শনিবার বেলুচিস্তানের অন্তত ১২টি জায়গা একযোগে হামলায় ৩১ বেসামরিক নাগরিক ও ১৭ নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়। পাল্টা অভিযানে ১৭৭ হামলাকারীকে হত্যার দাবি করে পাকিস্তানি বাহিনী। হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হামলার জন্য প্রতিবেশী ভারতকে দায়ী করলেও এর বিপরীতে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে, ভারত এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নিজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা আড়াল করতে চায় ইসলামাবাদ।

বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তানের সংকট কেবল নিরাপত্তাজনিত নয়, এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার ফল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের সম্পদ থেকে লাভবান হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার, অথচ তারা রয়ে যাচ্ছেন অবহেলিত।

এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ চীনের ৬৫ বিলিয়ন ডলারের ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ বা সিপেক প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুই হলো বেলুচিস্তান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও সম্প্রতি পাকিস্তানের খনিজ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।

তবে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসেই বিদেশি বিনিয়োগ বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক দাবি ও মানবাধিকার সংকটের সমাধান ছাড়া শুধু নিরাপত্তা জোরদার করে বেলুচিস্তানে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বা বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।