সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তাৎক্ষণিক তথ্যপ্রবাহের চাপে প্রচলিত সাংবাদিকতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এতে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজের গবেষক চার্লস এডওয়ার্ড গেহরকে।
তার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় পশ্চিমা গণমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী ও পরিবর্তিত শিরোনামের প্রবণতা দেখা গেছে। কখনো ইউক্রেনের দ্রুত পরাজয়ের পূর্বাভাস, আবার কখনো জয়ের সম্ভাবনার কথা এ ধরনের অবস্থান অনেকের কাছে পক্ষপাতদুষ্ট মনে হলেও গেহরকের মতে, মূল সমস্যা ছিল দ্রুততার চাপে পর্যাপ্ত তথ্য যাচাই না করা।
তিনি বলেন, আগে সংবাদ প্রকাশের আগে যাচাইয়ের জন্য সময় পাওয়া যেত। এখন কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও, ছবি ও নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ সেগুলো দেখেই তাৎক্ষণিক মত গড়ে তোলে। পরে যাচাই করা সংবাদ প্রকাশিত হলে তা অনেকের কাছে দেরিতে আসা বা বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সংঘাতে তথ্য নিজেই এক ধরনের অস্ত্র। ড্রোন ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর ভিডিও বা অসমর্থিত দাবি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। কিন্তু সাংবাদিকতার দায়িত্ব হলো তথ্য যাচাই, সূত্র নিশ্চিতকরণ এবং প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা যা সময়সাপেক্ষ। এই সময় ব্যবধানই সামাজিক মাধ্যম ও প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের মধ্যে ফাঁক তৈরি করছে।
গেহরকে এটিকে ‘গতির ফাঁদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দ্রুত খবর দিতে গিয়ে ভুলের ঝুঁকি বাড়ে, আবার যাচাই করতে সময় নিলে খবরের প্রাসঙ্গিকতা হারানোর আশঙ্কা থাকে। তাই সাংবাদিকতার বড় চ্যালেঞ্জ এখন দ্রুততা ও নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা।
তার মতে, ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমকে অনিশ্চয়তা স্বীকার করে আরও স্বচ্ছভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। কোনো তথ্য যাচাইাধীন থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন। নইলে দ্রুতগতির তথ্যযুদ্ধের এই যুগে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র : দ্য কনভারসেশন
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments