সিরিয়ায় অবশিষ্ট থাকা সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, ওয়াশিংটন মনে করছে সিরিয়ায় এখন আর মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় অংশীদারদের মাধ্যমে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী আইএসআইএস-এর (ISIS) বিরুদ্ধে লড়াই করার মূল মার্কিন লক্ষ্য কার্যকরভাবে অর্জিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাক সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ‘আল-তানফ’ গ্যারিসন এবং উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার ‘আল-শাদ্দাদি’ ঘাঁটি থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে।
বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, সিরিয়া সরকার এখন সন্ত্রাসবাদ দমনে সক্ষম এবং প্রয়োজনে মার্কিন বাহিনী যেকোনো হুমকির জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান মার্কিন নৌ ও বিমান মোতায়েনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তের ফলে অঞ্চলটিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক। কিছু মার্কিন ও বিদেশি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকান উপস্থিতি কমে গেলে সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে এবং আইএসআইএস পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, মার্কিন বিমান হামলার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তারা এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সেনা প্রত্যাহারের এই চূড়ান্ত বার্তা এলো।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments