Image description

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। এতে করে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪.৪৭ ডলারে দাঁড়ায়। পাশাপাশি এপ্রিলে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৫.১০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিনও স্বর্ণের দাম ২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারবাজার থেকে সরে এসে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। 

কেপিটাল ডট কমের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কাইল রোডা জানান, যুদ্ধের শঙ্কা বাড়লেই স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বাড়ে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে এর দামকে প্রতিনিয়ত উসকে দিচ্ছে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর নতুন কোনো মার্কিন হামলা হলে তার গুরুতর পরিণতি হতে পারে। যদিও জেনেভায় ইরানকে ঘিরে আলোচনায় কিছু অগ্রগতির খবর দিয়েছে হোয়াইট হাউস, তবে বড় কিছু বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

অন্যদিকে, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতি নিয়েও বাজারে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। যদি ভবিষ্যতে সুদের হার কমানো হয়, তবে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে রূপার (সিলভার) দাম ১.৫ শতাংশ বেড়ে ৭৮.৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮৪.৭১ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২২.৯৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর